বরিশালে নির্মিত হবে শেখ হাসিনা সেনানিবাস

SHARE

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করে বরিশালে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই প্রকল্পের  অনুমোদন দেওয়া হয়।

একনেক সভা শেষে প্রকল্পগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, এটি হবে দেশের ৩১তম সেনানিবাস। দেড় হাজারের বেশি একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া সেনানিবাসটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সেনানিবাসের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সেনা সদর ও পূর্ত পরিদপ্তর।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সেনানিবাস স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের বেশকিছু মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি সেসব প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশালে একটি সেনানিবাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেনানিবাসটি মূলত বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যে পায়রা নদীসংলগ্ন এলাকায় লেবুখালীতে পড়ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে এখন ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সেনানিবাস নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষিণে একটি সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

এর মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের সেনাবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকাটি চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠেনি। ফলে ঘরবাড়ি কিংবা স্থাপনার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের প্রয়োজন পড়বে না। প্রস্তাবিত সেনানিবাসে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে প্রায় ১৭ হাজার। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। পুরো টাকাই সরকারি অর্থায়নে ব্যায় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরো বলেন, এছাড়া তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে পায়রায়। সেখানে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজও চলছে। একই সঙ্গে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের নেওয়া এসব মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনানিবাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা উপকূলবর্তী জনপদ। এই সেনানিবাসের কাজ শেষ হলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা সহজ হবে।