‘ওভার কনফিডেন্ট ডাক্তার নয়, গুড সার্জন দরকার’

SHARE

যমজ সন্তানের একটিকে পেটে রেখে অস্ত্রোপচার শেষ করার ঘটনায় আদালতে হাজির হয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক হোসনে আরা বেগম বলেছেন, আমি কনফিডেন্ট ছিলাম, তাই ওই অস্ত্রোপচার করেছি।

এ সময় আদালত বলেছেন, আপনি কনফিডেন্ট থাকলেন কিন্তু এত কিছু হয়ে গেল। আমাদের এত ওভার কনফিডেন্ট ডাক্তারের দরকার নেই, গুড সার্জন দরকার।

মঙ্গলবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এ অস্ত্রোপচার ঘটনা প্রথমে আদালতের নজর আনা আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন বলেন, অস্ত্রোপচারকারী ডাক্তার হোসনে আরা বেগমের অপারেশন করার লাইসেন্স নেই।

জবাবে হোসনে আরা বেগম বলেন, বিএমডিসির আইন অনুযায়ী, কনফিডেন্ট থাকলে তিনি অপারেশন করতে পারেন।

এ সময় আদালত তিরস্কার করে হোসেনে আরা বেগমকে বলেন, আপনি তো শুধু কনফিডেন্ট নন, ওভার কনফিডেন্ট। আর এজন্যই তো এত কিছু হয়ে গেল।

এক পর্যায়ে আদালত বলেন, আমাদের এত ওভার কনফিডেন্ট ডাক্তারের দরকার নেই, গুড সার্জন দরকার।

এর আগে সকালে হাইকোর্টে হাজির হন কুমিল্লার সিভিল সার্জন, অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক হোসনে আরা বেগম এবং লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক।

এরপর আদালত কুমিল্লার সিভিল সার্জনকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। ওই দিন হোসনে আরা বেগম এবং লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে থাকা এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ১৫  নভেম্বরের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।

খাদিজা নামের এক নারীর গর্ভের দুটি বাচ্চার একজনকে পেটে রেখেই সেলাই করে অস্ত্রোপচার শেষ করা সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন গত ২৯ অক্টোবর আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলন। পরে আদালত উল্লিখিত তিনজনকে তলব করেন।