SHARE

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বসে আমরণ অনশন করছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা। প্রচণ্ড শীতে গত ৯ জানুয়ারি থেকে ফুটপাতে শুয়ে-বসে অনশন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন সাড়া মেলে নি।

অনশনে গত তিন দিনে মোট অসুস্থ হয়েছে ৭৪ জন। এর আগে জাতীয়করণের দাবিতে তারা গত ১ জানুয়ারি অবস্থান ধর্মঘট শুরু করে। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচিতে অসুস্থ হয়ে পড়ে ১০ জন।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাসরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাসরাসা জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। কতো দিন ধরে আমরা মানবেতর ভাবে এখানে পড়ে আছি। কিন্তু সরকার আমাদের দিকে নজরই দিচ্ছে না। আজ পর্যন্ত আমরা সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার সাড়া পাই নি।’

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাসরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাসরাসার শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৩ সালে বর্তমান সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। প্রাথমিকের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাসরাসাগুলো শিক্ষা কার্যরক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়নি। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষকা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি: শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের ব্যানারে দ্বিতীয় দিনের মত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন মাধ্যমিকের শিক্ষকরা। বুধবার সকালে মাধ্যমিক শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। যদিও তাদের অবস্তান নেওয়ার কথা ছিলো শহীদ মিনারে। দাবি আদায় না হলে ১৩ জানুয়ারি থেকে তারা আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দাবি আদায়ের আন্দোলনের জন্য শিক্ষকদের পাঁচটি সংগঠনের সমন্বয়ে এই লিয়াঁজো ফোরাম গঠন করা হয়েছে। সেই পাঁচটি সংগঠন হচ্ছে, বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (নজরুল), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (শাহআলম-জসিম), বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন ও জাতীয় শিক্ষক পরিষদ বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের কর্মসূচি :
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে স্বাধীনতা শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এই ফেডারশেন ১৬টি শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেডারেশনের প্রধান সমন্বয়কারী ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু।

তিনি জানান, আগামী ১৪ থেকে ১৮ জানুয়ারি সারাদেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণসংযোগ, ২১ জানুয়ারি উপজেলা পর্যায়ে মানববন্ধন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, ২৫ জানুয়ারি প্রতি জেলায় মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান, ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠক এবং ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হবে। তখন পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে বৈশাখী ভাতা, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট ও পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতারও দাবি করা হয়েছে।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কো-চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ অব্দুর রশীদ, সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ মোনতাজ উদ্দিন মর্তুজা।

27 Views