গাইবান্ধায় প্রকৌশলী নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ

26 Views
SHARE

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা ঃ প্রায় ৯ বছর পার হলেও গাইবান্ধা জেলা পরিষদে কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের নিয়োগে জালিয়াতি ও দুনীর্তির অভিযোগ উঠেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, নিয়োগ জালিয়াতি ও পদোন্নতির বৈধ্যতা খতিয়ে দেখার দাবি করেছেন জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র মতে, ১৯৮৮ সালে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। সেখানকার এলজিইডিতে যোগদানকারী উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা, মাস্টাররোলে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি পাওয়া এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদানের তারিখ বিভ্রাট নিয়ে জটিলতার সূত্রপাত ঘটে।চাকরি সংক্রান্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিদ্দিকুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং উল্লেখ থাকলেও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের নাম, সাল ও তারিখ নেই। মাস্টাররোলের ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার উল্লেখ থাকলেও যোগদানের তারিখ ০১/০৬/১৯৮৯ পাওয়া যায়। কিন্তু পদমর্যাদার উল্লেখ নেই। এ সময় তার নিয়োগ পত্রটির স্বাক্ষর তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর অবিকল নয়।

আরও মজার ঘটনাটি হলো, মাস্টাররোলে নিয়োগ পাওয়া চাকরিতে যোগদানের তারিখ ০১/০৬/১৯৮৯ এবং পদোন্নতি ছাড়াই উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে গাইবান্ধায় যোদগানের তারিখ ১৬/১০/১৯৯৫ খ্রি. উল্লেখ থাকার বিভ্রাট থেকে ভুয়া নিয়োগের রহস্য নিশ্চিত হলেও একই কর্মস্থলে প্রায় ৯ বছর কর্মরত থাকার সুযোগ পাচ্ছেন এই উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তার খুঁটির জোর নিয়েও বিতর্কের ঝড়, ক্ষোভ ও অসন্তোষ চলছে গাইবান্ধায়।

এদিকে, প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা জেলা পরিষদে কর্মরত সাবেক সচিব ড. সাইফুল আলম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী সোলায়মান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, মশিউর রহমান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কল্লোল কুমার চক্রবর্তীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে অন্যত্র বদলি/বিতাড়িত করার নজির আছে। এমন নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেরর প্রতিবাদে জেলা পরিষদের কর্মচারী সমিতির বিক্ষোভ, সমাবেশ, ধর্মঘট ও বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক স্মারকলিপি প্রেরিত হলেও তার বদলি ও অপসারণ কার্যকর হয়নি।

একটি সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের একটি ডিও লেটারের ভিত্তিতে সিদ্দিকুর রহমানকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল বিভাগে বদলি করা হলেও তিনি বিশেষ প্রভাবে গাইবান্ধায় যোগদানের সুযোগ পান।

তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট মোকদ্দমা ( রিট নং ১১৭৩১/২০১৫) দায়ের হলেও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়া সনদের ভিত্তিতে গাইবান্ধার কর্মস্থলে যোগদানের চেষ্টা করেন। কিন্তু রিটকারীর পক্ষে নিযুক্তীয় আইনজীবীর আপত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিচারপতির বেঞ্চ উক্ত ভুয়া সনদ বাতিলের আদেশ দেন (যার সূত্র নং ২১৬৫, তাং- ৩০/১২/২০১৫)। পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মধ্যমে রিটকারী মশিউর রহমান স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে অভিযুক্ত সিদ্দিকের বিরুদ্ধে পৃথক আপিল আবেদন পেশ করেন। কিন্তু তাও কার্যকর হয়নি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের নিয়োগ জালিয়াতি ও ভুয়া পদোন্নতির সুরাহা না হলেও তিনি অবৈধভাবে সহকারী প্রকৌশলীর ভারপ্রাপ্ত পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এসব নৈরাজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতায় জেলা পরিষদের ভেতর-বাইরে বিতর্কের ঝড়, ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করলেও দেখার কেউ নেই। নেই কোনো প্রতিকার।

অভিজ্ঞ মহলের দাবি, বিতর্কিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রভাব মুক্ত তদন্ত হওয়া আবশ্যক। তার নিয়োগপত্র ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর যোগদান পত্রের স্বাক্ষর জালিয়াতির এক্সপার্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য-মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে। এ জন্য দুদক চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপের দাবি করেন তারা।

তবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল আমার কাছে অন্যায় সুবিধা না পেয়ে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।