SHARE

সামান্য জ্বর হল তো খেয়ে নাও অ্যান্টিবায়োটিক! পেট খারাপ হয়েছে? অনেকের মনে প্রথম সমাধান হিসেবে হয়তো অ্যান্টিবায়োটিকের কথা আসবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহারে ফলে অবস্থাটা এমন দাঁড়াচ্ছে যে, ওই সব ওষুধের কাজ করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কেননা শরীরে ওই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধী শক্তি তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

একারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বার বার হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের বিরুদ্ধে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এমন এক দিন আসবে যখন জীবানুর বিরুদ্ধে লড়াই করার সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে অ্যান্টিবায়োটিক। তাই যেসব ডাক্তার রোগীর শারিরীক সমস্যা ঠিকমতো না বুঝেই ‘শর্টকাট সমাধান’ হিসেবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক লিখে দেন তাদের বর্জন করুন।’

কিন্তু এই দুঃসংবাদের মাঝেও আশার আলোর দেখা মিলেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার এমন এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে জীবাণুরা কখনো প্রতিরোধের পাঁচিল গড়তে পারবে না। শুধু তা-ই নয়, ওই নতুন প্রজাতির অ্যান্টিবায়োটিকের যে বাড়তি অংশ রোগীর শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে, তা সহজেই প্রকৃতিতে মিশে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে পানি আর কৃষিজাত দ্রব্যের সঙ্গে মিশে তারা সুস্থ মানুষ বা অন্যান্য প্রাণীর দেহে ঢুকে বিপত্তি ঘটাতে পারবে না।

সম্প্রতি এমন আশার কথাই শুনিয়েছেন নোবেলজয়ী রসায়নবিদ আডা ইয়োনাথ। তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের বহুল ব্যবহারে ক্রমশই ভোঁতা হয়ে পড়ছে ওই জীবনদায়ী ওষুধের ধার। যেসব জীবাণুকে প্রতিরোধ করার জন্য তাদের সৃষ্টি, তারা আর ওই ওষুধে মরছে না। ফলে নতুন প্রকৃতির অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেছেন, নতুন চরিত্রের যে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে গবেষণা চলছে, তা হবে পরিবেশবান্ধব। এর গঠন রহস্য এমন হবে যে, জীবানুদের পক্ষে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা অসম্ভব হবে। যেটি বর্তমানে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকগুলো করতে পারছে না। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাকাওয়ের একদল বিজ্ঞানী এই জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু করেছেন। -রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রি

60 Views