প্রচ্ছদ আজকের সেরা সংবাদ হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে

হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কায় সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে। জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ ১১ উপজেলার হাট-বাজার শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা এখন চলে গেছে হোম কোয়ারাইন্টানে।

বিভিন্ন উপজেলার কর্মহীন হতদরিদ্র মানুষগুলো এখন পর্যন্ত সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না।

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে যে সহায়তা দেওয়া হয়েছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানান, ইউপি সদস্য-সদস্যারাএগুলো অনেকটাই মুখ দেখে ও তাদের বলয়ের লোক দেখে দেথে তালিকা করছেন। এ নিয়ে কর্মহীন বেকার দরিদ্র্য অভাবী জনগোষ্ঠীর মাঝে চরম অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ার করে বলেছেন, কোন মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে। কিন্তু বিভিন্ন উপজেলায় এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেকই বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করছেন যে, এভাবে বেকার বাড়িতে বসে না খেয়ে মরার চেয়ে, করোনা ভাইরাসে মরাই ভালো। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শহরে সাময়িক সহায়তা দিলেও গ্রাম পর্যায়ের খবর এখনো কেউ নেয়নি। সরকারের একাউন্টে ধনাঢ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া কোটি কোটি টাকা যুক্ত হলেও গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনও কোন সহায়তা পাচ্ছে না।

জামালগঞ্জের রিকশা চালক উসমান মিয়া বলেন, ‘রিকশা চালানো বন্ধ, রোজি নাই বৌ বাচ্চা নিয়া না খাইতে-না খাইতে এমনিতেই মইরা যাইমু। এর চাইতে করোনায় মইরা যাওয়াই বালা। সরকারে চাউল ডাইল দিব, এইডা খালি হুইনাই যাইতাছি। কোন দিন দিব, মরার পরে দিলে লাভডা কিতা হইব?’ আমরার ভাগ্যে আছেনি। ফেনারবাঁক গ্রামের বেশ কয়েকজন খুব আক্ষেপ করে বলেন, মহিলা মেম্বার তার লোকজন চিইন্যা-চিইন্যা নাম দিতাছে। এমন দুর্যোগেও যারা সরকারী মাল লইয়া এমন অবিচার করে আমরা আল্লাহ্ র উপরে ছাইড়া দিলাম…।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতি উপজেলা আজ পর্যন্ত প্রথম ধাপে ৬শ থে প্রায় ৮শর মধ্যে কর্মহীন, গরিব দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বণ্টন করা হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। এতে শতকরা হিসেবে এক জন পেয়েছে কি না সন্দেহ। আর এগুলোর মধ্যে মেম্বার-চেয়ারম্যানদের ঘনিষ্ট জনরাই ভাগ বসিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় ব্যক্তি উদ্যোগেও কিছু ত্রাণ সহায়তা করা হলেও ফটো সেশনের লাজে অনেকই এড়িয়ে চলেছেন। বেশ কটি ইউনিয়ন সচিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাদেরকে তালিকা প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিয়েছি। এখন কবে কতজনকে এ ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে সেটা বলা যাচ্ছে না।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুল হক বলেন, ‘যারা দিন আনে দিন খায় তাদের অবস্থা খুব করুণ। এদের মধ্যে চরম হতাশা ও অস্বস্তি কাজ করছে। সব বন্ধ থাকায় তারা কেউ কাজে যেতে পারছে না। ফলে অনেকটা অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে তারা। তাই দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা চালানো প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি কুলেন্দু শেখর তালুকদার বলেন, ‘দেশ একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার চেয়েও বড় ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। যারা এখন গৃহবন্দী, কাজে যেতে পারছে না। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোর বিপাকের মধ্যে আছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম.এনামুল কবীর ইমন বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের মানুষও খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। আর সেই তুলনায় আমাদের দেশের মানুষ ও গ্রামের নিম্ন আয়ের পরিবারের লোকজনও খুব অসহায় হয়ে পরেছে। আ.লীগ সরকারের পক্ষ থেকে অতীতেও ফসলহারা হাওরবাসীর খাদ্যের জন্য কেউ কষ্ট পায়নি। বর্তমানেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করছেন। সরকারি, দলীয় ও আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকেও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যতদিন বেঁচে থাকবো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল বলেন, ‘প্রতি ইউনিয়ন থেকে যে তালিকা এসেছে তার মধ্যে ৬৪০ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামী পরশুর মধ্যে আরো ২৭শ জনকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জের সব ক’টি উপজেলায় সরকারি সহাযতা পৌঁছে দেয়া হয়েছে যা পথম পর্বে দেয়া হয়েছে আগামী পরশুর মধ্যে দ্বিতীয় পর্ব সহায়তা কর্মহীন, দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা আমরা পৌঁছে দেবে।