ঢাকা বিভাগ

স্কুলছাত্রীর নগ্ন ভিডিওধারণ করে চাঁদা দাবি, আটক ১

SHARE

অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে (১৪) অপহরণ করে ও জোরপূর্বক নগ্ন করে মোবাইল ফোনে ছবি–ভিডিওধারণ এবং ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে রোববার এই অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আট্ককৃত যুবকের নাম হারুন সেখ। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী জেলা সদরের আলিপুরে।

এর আগে গত শুক্রবার ভূক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা তিনজনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলো- রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের মান্নান সেখের ছেলে হারুন সেখ (৩০), মুকুল সরদারের ছেলে রিপন সরদার (২৫) এবং রশিদ সেখের ছেলে তৈয়ব সেখ (৩০)। এদিকে আটককৃত হারুনকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।

ভূক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তার মেয়ে বাড়ির টিউবওয়েলে অজু করতে যায়। সে সময় ওই টিউবওয়েলের পাশে থাকা পায়ে হাঁটা রাস্তা দিয়ে অভিযুক্ত হারুন, রিপন ও তৈয়ব যাচ্ছিল। তারা হঠাৎ করেই ওই টিউবওয়েলের নিকট থেকে তার মেয়ের মুখ আটকে ধরে পার্শ্ববর্তী একটি মেহগনী বাগানে নিয়ে যায়।

ওই সময় তারা তার মেয়ের জামাকাপড় খুলতে বলে। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা মেয়েকে চড়থাপ্পড় মারে এবং জোরপূর্বক জামাকাপড় খুলে ফেলে। সেই সাথে প্রথমে রিপন ও তৈয়ব এবং পরে হারুন মোবাইল ফোনে তার মেয়ের নগ্ন ছবি ও ভিডিওধারণ করে। একপর্যায়ে ওই স্কুলছাত্রীর নিকট ২০ হাজার টাকা দাবি করে তারা। দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে এই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে তারা। ওই সময় স্থানীয় মুসুল্লীরা নামাজের জন্য আসলে তারা ভূক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে নগ্ন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার কথা স্বীকার ওই স্কুলছাত্রী জানায়, অভিযুক্ত হারুন, রিপন ও তৈয়ব ভবঘুরে। তারা এলাকায় অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। এখন তার জীবনও নষ্টের চেষ্টায় মেতে উঠেছে তারা। সে ওই লম্পটদের শাস্তির দাবি জানায়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।