জাতীয়

শেখ হাসিনাকে ট্রাম্পের চিঠি

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক চিঠিতে এ আশ্বাস দেন ট্রাম্প। চিঠিতে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে প্রয়োজনীয় অবস্থা সৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ  করে ট্রাম্পের পাঠানো এ চিঠি হস্তান্তর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এখানে কোনো প্রশ্ন নেই যে, মিয়ানমারই এই সংকট (রোহিঙ্গা সংকট) সৃষ্টি কমরছে। তাদের অবশ্যই জবাব দিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সাড়া দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এক মিলিয়নের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দেওয়া বিরাট বোঝা। কিন্তু বিশ্ব জানে বাংলাদেশের এ ধরনের কার্যক্রমের কারণে হাজার হাজার জীবন বেঁচে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদার বাংলাদেশের পাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, আমি আশা করি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার নেতৃত্ব অব্যাহত রাখবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের চ্যালেঞ্জগুলো সামনে রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিঠির জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতাড়িত রোহিঙ্গা নাগরিকদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে সাময়িক আশ্রয় দিতে সরকার ভাসানচর দ্বীপটিকে প্রস্তুত করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর আগমনে স্থানীয় জনগণ ভোগান্তিতে পড়ছে এবং পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কষ্ট লাগবে জাতিসংঘের অধীনে ইউএসএইড সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দেখতে ইউএসএইডের প্রেসিডেন্ট মার্ক গ্রিন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্টার সেন্টার এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত ম্যারি অ্যান পিটার্স শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান বার্নিকাট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

এবং গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।