খেলাধুলা

রোমাঞ্চকর লড়াই জিতে সিরিজ টাইগারদের

তামিম ইকবালের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রেকর্ড ৩২২ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ডোনাল্ড তিরিপানো ঝড়ে জয় হাতছাড়া হতে বসেছিল টাইগারদের। তবে শেষ ওভারে বাংলাদেশকে জয় এনে দিয়েছেন আল আমিন হোসেন। রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার ম্যাচে ৪ রানে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে মাশরাফি মুর্তজার দল। শেষ ৮ ওভারে ৯৩ রান তুললেও জয় পাওয়া হয়নি জিম্বাবুয়ের।
শেষ দিকে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান তিরিপানো এবং মুতোমবোদজি। মাত্র ৩৯ বলেই ৮০ রানের জুটি গড়েন তিরপানো এবং মুতোমবোদজি। আল-আমিন এবং শফিউলকে বেশ কঠিন সময়ই উপহার দিয়েছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। শফিউল ৯ ওভারে দেন ৭৬ রান আর আল-আমিন ১০ ওভারে দেন ৮৫ রান। তিরিপানো শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন আর মুতোমবোদজি ফেরেন ২১ বলে ৩৪ রানে।

টাইগারদের হয়ে তিনটি উইকেট নেন তাইজুল ইসলাম আর একটি করে উইকেট নেন মাশরাফি, শফিউল, আল আমিন ও মিরাজ।

পাহাড়সম রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের দুর্গে আঘাত হানেন শফিউল ইসলাম। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে রেগিস চাকাবাকে (২) তুলে নেন শফিউল। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ব্রেন্ডন টেলর আসেন কামুনহুকামুয়েকে সঙ্গ দিতে। দুইয়ে মিলিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে রোডেশিয়ানরা। তবে শফিউলের করা দশম ওভারের দ্বিতীয় বলে মিরাজের দুর্দান্ত এক ফিল্ডিংয়ে টেইলরকে (১১) রান আউট করে বিদায় করেন। এরপর অধিনায়ক শন উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন তিনাশি। তবে মিরাজের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়ে শন (১৪) ফিরলে ভাঙে ২৩ রানের জুটি। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক যখন ফিরলেন তখন স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ মাত্র ৬৭ রান। অন্যরা যখন আসা যাওয়ার মিছিলে তখন উইকেটের এক প্রান্ত আকড়ে ধরে রাখেন তিনাশি কামুনহুকামুয়ে। দারুণ এক অর্ধশতকে লড়াই করছিলেন একাই। তবে ২৪তম ওভারে তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে তিনাশি করেন ৫১ রান। ৫ম উইকেটে ৮১ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা এবং ওয়েসলি মেধেভেরে। অর্ধশতক তুলে নিয়ে ব্যক্তিগত ৫২ রানে তাইজুলের বলে এলবি হয়ে ফেরেন তিনি। মাধেভের ফেরার পর ভয়ংকর হয়ে ওঠেন সিকান্দার রাজা। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পূর্ণ করেন অর্ধশতক। এরপর ৬৬ রানে মাশরাফির শিকার হয়ে ফেরেন দলীয় ২২৫ রানে। তার আগে অবশ্য সিকান্দারকে সঙ্গ দেওয়া মুতুম্বামিকে (১৯) নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন তাইজুল। তাইজুলের পর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমবার উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি। বাংলাদেশ অধিনায়কের শিকার সিকান্দার রাজা। দারুণ ব্যাট করতে থাকা সিকান্দারকে থার্ডম্যানে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানান বাংলাদেশ অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে সিকান্দার খেলে যান ৬৬ রানের ইনিংস। ৫৭ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ চার ও ২ ছক্কায়।

তামিম ১৫৮ বাংলাদেশ ৩২২
ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেললেন তামিম ইকবাল। তাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংসের নতুন রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। সঙ্গে মুশফিকুর রহীমের ৫৫, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ৪১ ও মোহাম্মদ মিঠুনের ১৮ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২২/৮। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩২১ রান তুলেছিল টাইগাররা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তামিম ইকবালের সঙ্গে চমৎকার শুরু করেন লিটন কুমার দাস। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে কাটা পড়েন দলীয় ৩৮ রানে। কার্ল মাম্বার করা ইনিংসের সপ্তম ওভারে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলেন তামিম। বলটা মাম্বার হাতের তালুতে লেগে দিক পাল্টে আঘাত হানে স্টাম্পে।

উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া লিটন আর দাগ ছুঁতে পারেননি। ১৪ বলে দুই বাউন্ডারিতে ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। প্রথম ওয়ানডেতে ১২৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

দলীয় ৬৫ রানে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে রানআউট হন নাজমুল হাসান শান্ত। মাধেভেরের করা ১১তম ওভারে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে বল ঠেলেন শান্ত। তামিম তাকে কল করেই পৌঁছে যান অপর প্রান্তে। শান্ত তামিমের কলটা বুঝতে পারেননি। হাফসেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা সতীর্থের জন্য নিজের উইকেট বিসর্জন দেন তিনি। ১০ বলে ৬ রান করেন এই বাঁহাতি।

তৃতীয় উইকেটে তামিম-মুশফিকুর রহীমের ৯২ বলে ৮৭ রানের জুটিতে ১০০ পেরোয় বাংলাদেশ। মুশফিক ৫০ বলে ৫৫ রান করে আউট হন। চতুর্থ উইকেটে ১০৬ রানের জুটি উপহার দেন তামিম-মাহমুদুল্লাহ। দলীয় ২৫৮ রানে চার্লটন শুমার শর্ট বলে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন রিয়াদ।৫৭ বলে ৩ চারে ৪১ রান করেন তিনি।

ইনিংসের ৩৭তম ওভারের ষষ্ঠ বলে ২ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তামিম। এরপর জিম্বাবুইয়ান বোলারদের ওপর চড়াও হন। একের পর এক বল সীমানা ছাড়া করেন।২০০৯ সালে বুলাওয়েতে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই তামিম খেলেছিলেন দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫৪ রানের ইনিংসটি। এবার ১৫৮ রান করে ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকে। অন্যদিকে, ২০১৮তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইমরুল কায়েসের ১৪৪ রানের ইনিংসটি ছিল এতদিন পর্যন্ত ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে কোনো টাইগার ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস। তামিম সেটিও ছাড়িয়ে গেছেন। ১৩৬ বলে ১৫৮ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ২০ চার ও ৩ ছক্কায়।

পঞ্চম উইকেট মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে মাত্র ১৮ বলে ৩৪ রান যোগ করে দলীয় ২৯২ রানে আউট হন তামিম। মিঠুন ইনিংস শেষ করে মাঠ ছাড়েন। ১৮ বলে ৩২* রানের ঝড়ো ইনিংসটি সাজান ৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়। মাঝে মোহাম্মদ মিরাজ (৫) ও অধিনায়ক মাশরাফির (১) উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে কার্ল মাম্বা ও ডোনাল্ড টিরিপানো নেন ২টি করে উইকেট। ওয়েসলি মাধেভের ও চার্লটন শুমার শিকার ১টি করে উইকেট।