জাতীয়

রাত পোহালেই বই উৎসব, অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা

শেয়ার করুন

মো: মনোয়ার হোসেন : রাত পোহালেই নতুন বছর। আর নতুন বছরের প্রথম দিনটি স্কুল পড়ুয়াদের কাছে বড্ড খোশমেজাজের। কারণ বছর ঘুরে এই দিনটি ফিরে আসলে স্কুলে স্কুলে হয় বই উৎসব। ঝকঝকে তকতকে একদম আনকোরা পাঠ্য বই এদিন শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে যায়। বুক ভরে নতুন বইয়ের সোদা গন্ধ নিয়ে বর্ণিল উৎসবে মাতে শিক্ষার্থীরা সবাই। গ্রামের মেঠোপথের পাশাপাশি শহরের রাজপথ দিয়ে হাত ভর্তি নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাসিত শিক্ষার্থীদের দলবেঁধে বাড়ি ফেরার দৃশ্যটা সবারই খুব নজর কাড়ে।

দেশে বই উৎসব প্রচলনের পর গত কয়েক বছর ধরে জানুয়ারির প্রথম দিনটি ফুরফুরে আমেজের হয়ে আসে শিক্ষার্থীদের কাছে। পৌষের গা-হি-হি করা শীত তোয়াক্কা না করে বছররের এই দিনটাতে স্কুলে হাজির হয় তারা।

আগামীকাল নতুন বছরের প্রথমদিনে সারাদেশে ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার নতুন বই বিতরণ করা হবে। এবারের বই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ ৩১ ডিসেম্বর বিকেলে। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যশোর জেলা শিক্ষা অফিস মতে, উৎসবমুখর পরিবেশে আগামীকাল পয়লা জানুয়ারি যশোরে উদ্যাপিত হবে বর্ণিল বই উৎসব। এদিন যশোরের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯৪টি পাঠ্য বই। মাধ্যমিক পর্যায়ে এই বই প্রাপ্তির হার ৯৯ শতাংশ। বাকিগুলোতে শতভাগ।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, যশোরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, দাখিল, ইবতেদায়ী, এসএসসি ভোকেশনাল শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বইয়ের চাহিদা ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮৯৪টি। এর মধ্যে যশোরের আট উপজেলার সাড়ে ৫শ’ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদা ৩০ লাখ ৩ হাজার ৭টি। প্রাথমিকে ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫টি। দাখিলে ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭০০টি, ইবতেদায়ীতে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৬টি।

এসএসসি ভোকেশনালে ৫৭ হাজার ৩০০টি। যার বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে ২৫ লাখ ৭৮ হাজার ৯৪৫ পিস বই। এর মধ্যে আট উপজেলার মাধ্যমিকে ৩০ লাখ ৩ হাজার ৭ পিস বইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে ২৯ লাখ ১১ হাজার ৩৯৭ টি। সদর উপজেলায় বই পৌঁছেছে ৮ লাখ ৭১ হাজার ১০০ পিচ, শার্শায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার, মণিরামপুরে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০, বাঘারপাড়ায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৯৭, ঝিকরগাছায় ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৫, কেশবপুরে ২ লাখ ২৪ হাজার ২২৫। ছয় উপজেলায় বই প্রাপ্তির হার শতভাগ। চৌগাছায় বইয়ের চাহিদা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০। পৌঁছেছে ২ লাখ ১০ হাজার ৪০০ পিস বই। প্রাপ্তির হার ৮৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অভয়নগরে বইয়ের চাহিদা ৩ লাখ ১৪ হাজার ৯০০। পৌঁছেছে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ পিস বই। প্রাপ্তির হার ৯৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

জেলার ১ হাজার ২৮৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই প্রাপ্তির হার শতভাগ। এর মধ্যে অভয়নগরে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৯৮ পিস বই, কেশবপুরে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ পিস, চৌগাছায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৬ পিস, ঝিকরগাছায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ১১৯ পিস, বাঘারপাড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ২৭১ পিস, মণিরামপুরে ২লাখ ১৪ হাজার ৫১৮ পিস, শার্শায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৫০৩ পিস ও সদরে ৪ লাখ ৬ হাজার ২০০ পিচ বই পৌঁছে গেছে।

এছাড়া দাখিলের ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭০০ পিস বইয়ের মধ্যে পৌঁছেছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৫ পিস বই, ইবতেদায়ীতে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭০৬ পিস, এসএসসি ভোকেশনালে ৫৭ হাজার ৩০০ পিস বই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, সব বই বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয়া হবে নতুন বই। জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল খালেক জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে বই উৎসব উদযাপন করা হবে। জেলা পর্যায়ে বই উৎসবের অনুষ্ঠান শুরু হবে যশোর জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।