রংপুর বিভাগ

রাজারহাটে রমজানকে সামনে রেখে বাড়ছে দ্রব্যমূল্যের দাম

SHARE
এ.এস.লিমন,রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে বাড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে রোজা আর ঈদকে প্রতিবছরই ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা।
তাই দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাজারে বাড়ছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চিনি, ছোলা ও ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে এসব পণ্যের প্রায় প্রতিটিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ১০ টাকা করে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব দ্রব্যের বাড়তি দামে অনেকটা অস্বস্তিতে পড়েছেন ভোক্তা সাধারণ। আর এ জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণকারী অসাধু সিন্ডিকেট এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং টিম মাঠে না থাকাকেই দায়ী করছেন ভোক্তারা।
সরবরাহে ঘাটতির অজুহাত যেমন রয়েছে তেমনি সর্বক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বাড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে চালের দামও। আর কোম্পানিভেদে ভোজ্য তেলের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজারহাটে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারের মূল্যেও রয়েছে অনেক তফাৎ। রাজারহাটে পাইকারি বাজারে আমদানি করা ভারতীয় পিঁয়াজ প্রতি কেজি ২২ থেকে ২৪ টাকা করে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০টাকা। অন্যদিকে দেশি পিঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া রসুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, আদা ৮৫ থেকে ১৪০ টাকা, ছোলা ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ টাকা, মসুর ডাল (চিকন)  ১শ থেকে ১৩০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ৯০ থেকে ১শ টাকা, খেসারি ডাল ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা, সয়াবিন তেল বিভিন্ন কোম্পানিভেদে ১কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, দুথদিন আগে ৪২ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকায়, শুকনা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, জিরা (ইরানি) ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, এলাচ ১০০০ থেকে ১৫০০, দারুচিনি ১৯০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রমজানের আগে তা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজারহাট সবজিবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া আলু এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ২০ টাকায়। এছাড়া বেগুন ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাগজি লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ৪০টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে বাজারে এসে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে স্বল্প আয়ের মানুষের। আসন্ন রমজানে সরকার বাজার মূল্যে লাগাম না টানতে পারলে পবিত্র এ মাসে ভোক্তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
ক্রেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতি বছর রমজানের আগে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সরকারকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়। তবে সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয় না। যার ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের। আর এজন্য অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দায়ী বলে মনে করেন ক্রেতারা।
তাই দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন বাজার তদারকির ব্যবস্থাসহ টিসিবিকে সম্পূর্ণরুপে কার্যকর করার পাশাপাশি অসাধু সিন্ডিকেটের হোতাদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আনার আহবান জানান তারা।
তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে রাজারহাট ব্যবসায়ীদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। রংপুর থেকেই নিত্যবাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলেও জানান তারা। তাই নিত্য দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারী ব্যবসায়ীদেরকে দ্রব্যমূল্যেরর দাম আরো বাড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, অযৌক্তিকভাবে কোন দ্রব্যেরই মূল্য বাড়বে না। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা আন্তরিক রয়েছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে প্রতিবারের ন্যায় এবারও শীঘ্রই রমজান মাসে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ:রাশেদুল হক প্রধান।
এজন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যে সভা আহ্বান করে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি বাজার মনিটরিং করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।