প্রচ্ছদ সারাদেশ ঢাকা বিভাগ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ইসলামিক ট্রাস্টের দানকৃত মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ইসলামিক ট্রাস্টের দানকৃত মসজিদের জায়গা দখলের অভিযোগ

সায়েম খান, হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের পাটগ্রাম মোড়ে ইসলামিক ট্রাস্টের দানকৃত বায়তুল আরশাদ জামে মসজিদের জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। আন্ধারমানিক গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরু (৪০) জোরপূর্বক মসজিদের জায়গা দখল দোকানঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে বায়তুল আরশাদ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল আজিজ মোল্লা বাদি হয়ে মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরুকে আসামি করে গত ৭ অক্টোবর একটি পিটিশন মোকদ্দমা দায়ের করেন।
পিটিশন মোকদ্দমা নং-২৯৪/২০ (হরিরামপুর)/২০২০। মোকদ্দমার এজাহার সূত্রে প্রকাশ পায়, আন্ধারমানিক গ্রামের আব্দুর রশিদ খান খরিদ ও মাতৃক ওয়ারিশ সূত্রে স্বত্ববান মালিক দখলকার থাকাবস্থায় গত ১৯৯১ সালের ৫ জুন ১৪৬৫ নং দানপত্র দলিল মূলে ৮৮ডিং ভূমি তার স্ত্রী সোনাবরুকে হস্তান্তর করে দখল অর্পণ করেন।
Al islam
১৯৭৬ সালের ৯ জানুয়ারি মাখন চন্দ্র সাহা ২৩৯ নং সাফ কবলা দলিল মূলে ৪৬ ডিং ভূমি রাজা মিয়া, বাদশা মিয়া, মজিবর রহমান, আওলাদ হোসেন মিয়া ও লাল মিয়া বরাবর বিক্রয় করে যথারীতি দখল অর্পণ করেন। পরবর্তীতে আওলাদ হোসেন অবিবাহিত অবস্থায় মৃতুবরণ করলে আব্দুর রশিদ খান, রাজা মিয়া, বাদশা মিয়া, মজিবর রহমান, লাল মিয়া ও সোনাবরু ৬জনে একত্রিত হয়ে ১৯৯৪ সালের ১৪ অক্টোবর ৩৩৮৩ নং সাফ কবলা দলিলে ৮টি দাগে ১৪৬ ডিং জমি হরিরামপুরের ইসলামিক ট্রাস্টের নামে বিক্রয় করে যথারীতি দখল অর্পণ করেন।
এছাড়াও আব্দুর রশিদ খান ও তার স্ত্রী সোনাবরু ২জনে মিলে ১৯৯৪ সালের ২৪ অক্টোবর ৩৩৮৪ নং সাফ কবলা দলিলে ৪টি দাগে ১৩৫ ডিং জমি ইসলামিক ট্রাস্টের কাছে বিক্রয় করেন। এতে করে ২টি দলিলে ১২টি দাগে সর্বমোট ২৮১ ডিং জমির মালিক বনে যান এই ইসলামিক ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠানটি।
মোকদ্দমার বরাত দিয়ে আরও জানা যায়, ইসলামিক ট্রাস্ট একটি জনকল্যাণমূলক অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করে আসছে বলে তারই সুবাদে এলাকার জনগণের চাহিদা মোতাবেক ট্রাস্টের দক্ষিণপূর্ব কোণে একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য গত ২০০৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ট্রাস্টের এক মিটিং-এ ১০ শতাংশ জায়গা মসজিদের জন্য দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এরপরেই ডোবা জায়গা ভরাট করে একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১০ শতাংশ জায়গায় একতলা মসজিদ নির্মাণ করা হলেও সামনে জায়গার অভাবে মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই পুণরায় ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট এক মিটিংয়ের মাধ্যমে ট্রাস্টের মালিকানাধীন আর,এস ২১৪৮, ২১৪৯, ২১৪৪ দাগের দক্ষিণ পাশ হতে পাকা রাস্তা সংলগ্ন পূর্বের ১০ডিং এবং নতুন করে আরও ১৭ ডিং জায়গা মসজিদকে ব্যবহারের অনুমতি দেয় ইসলামিক ট্রাস্ট। এতে করে মসজিদের জায়গার পরিমাণ দাঁড়ায় সর্বমোট ২৭ ডিং।
উল্লেখ্য, ইসলামিক ট্রাস্ট ২৮১ ডিং জমির খাজনা হালসন পর্যন্ত পরিশোধ করেছে বলেও পিটিশনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বায়তুল আরশাদ জামে মসজিদ কমিটির দাবি, পাকা রাস্তা সংলগ্ন মসজিদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে দোকানঘর নিমার্ণ করছেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম ওরফে সিরু। মোকদ্দমার সূত্র ধরে গত ৭ অক্টোবর হরিরামপুর থানা পুলিশ জায়গাটির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে উভয় পক্ষকে একটি নোটিশ প্রদান করে।
এছাড়াও গত ১৩ অক্টোবর হরিরামপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) মোকদ্দমাটিতে উল্লেখিত বিষয়ের ওপর তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করে বিজ্ঞ আদালত।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, আদাতের নির্দেশ পাওয়ার পরেই আমি বয়ড়া ইউনিয়নের সহকারী কমিশনারকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।”
এ বিষয়ে বয়ড়া ইউনিয়নের সহকারি কমিশনার রকিবুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ইসলামিক ট্রাস্ট ২৮১ ডিং জায়গার খাজনা হালসন পর্যন্ত পরিশোধ করলেও সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, এই ২৮১ ডিং জায়গার মধ্যে ৯.৪৩ ডিং জাগয়া উপজেলার স্থানীয় সরকারের (এলজিইডি) একোয়ারভুক্ত রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম সিরু বলেন,“জায়গাটা পরিত্যাক্ত ছিল তাই আমি ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে ঘর উঠানোর জন্য কেবল ভিটি তৈরি করছি। আর এটা মসজিদের জায়গা নয়, এটা হলো এলজিইডি’র জায়গা। এলজিইডি’র যদি নিষেধ করে তাহলে আমি ঘর তুলব না।”