হেড লাইন

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদ থেকে তাবলিগে যোগ দেয়া ১৯ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

শেয়ার করুন

ভারতের সর্বত্র দিল্লির তাবলিগ জামাতে যোগ দেয়াদের খোঁজ চালাতে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গত মঙ্গলবার ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব গৌবা সব রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এই নির্দেশ দিয়েছেন। ভারত সরকারের এই নির্দেশ অনুযায়ী খোঁজ চালাতে গিয়ে আসানসোলের তিনটি মসজিদ থেকে ৩০ বিদেশি সহ ৩৭ জনকে উদ্ধার করে কলকাতায় এনে কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। আসানসোল পুরসভার চিকিৎসক শামিম আলম জানিয়েছেন, বিদেশিদের মধ্যে ১৯ জনই বাংলাদেশি। বাকী ১১ জন ইন্দোনেশিয়ার। বৃহস্পতিবারই আসানসোল এবং পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে উদ্ধার হওয়াদের কলকাতায় নিয়ে এসে কড়া প্রহরায় কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রেখে শারিরীকি পরীক্ষা করা হবে। জানা গেছে, তাবলিগ জামাতে অংশগ্রহণকারীরা কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে যাতে বেরোতে না পারেন সেজন্য পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৭৩ জন দিল্লি গিয়েছিলেন বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানালেও ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৯৮ জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি বিদেশি বলে জানা গেছে। বাকীদের খোঁজ চলছে বলে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭ জন। এর মধ্যে ৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। আরও কিছু মৃত্যুর খবর জানা গেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই সব মৃত্যু হয়েছে নানা শারীরিক জটিলতার জেরে। তবে মানুষ যেভাবে লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করে বাজার-হাটে হুমড়ি খেয়ে বাজর করছেন, রেশন দোকানে লাইন নিয়ে মারামারি করছে এবং চায়ের দোকানে ভিড় করে আড্ডা দিচ্ছেন তাতে চিন্তিত রাজ্য প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে করোনা-পরিস্থিতি তৃতীয় পর্যায়ে ঢুকে পড়লে তা ঠেকানো মুশকিল হয়ে যাবে। তাই মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন-বিধি কঠোর ভাবে মেনে চলার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি টিভিতে বলেছেন, আগামী দু’সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে রাস্তায় ঘুরছেন, খেলছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। বাড়ির মেয়ে-বোনের মতো অনুরোধ করছি, এ-সবের জন্য অনেক সময় পাবেন। এই ক’টা দিন বাড়িতে থাকুন। শক্ত হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। জরুরি জিনিস পাওয়া যাচ্ছে বলে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। দূরত্ব রেখে সাত জন করে কেনাকাটা করুন।