আর্ন্তজাতিক

নাগরিকত্ব আইনে জাতিসংঘকে ‘না’ ভারতের

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদ ইউএনএইচআরসি’কে ভারত জানিয়ে দিয়েছে নাগরিকত্ব আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের সার্বভৌমত্বের কারণে এ বিষয়ে বিদেশী কোন পক্ষের কোনো কিছু বলার থাকতে পারে না। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে চলমান আইনি লড়াইয়ে যোগ দিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনুমতি চেয়েছে ইউএনএইচআরসি। এর জবাবে এমন কড়া শব্দ ব্যবহার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়েছে, ভারতের শীর্ষ আদালতের কাছে ওই অনুমতি চেয়ে আবেদন করাকে দেখা হচ্ছে ভারতের ওপর চাপ বৃদ্ধির সিগন্যাল হিসেবে। এটাই এ ধরণের প্রথম আবেদন বলে বলা হয়েছে রিপোর্টে। বর্তমানে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে।

এতে অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে চায় ইউএনএইচআরসি। জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতের পার্লামেন্টের আইন করার যে সার্বভৌম অধিকার আছে এ বিষয়ে আমরা অবহিত। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বিশ্বাস করি, ভারতের সার্বভৌমত্বের ইস্যুতে কোনো বিদেশী পক্ষের কোনো অবস্থান থাকতে পারে না।’ ভারত এতে আরো বলেছে, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন সাংবিধানিকভাবে বৈধ। এটা ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ও মানবাধিকারের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে।

জানুয়ারিতে আদালতে এ আইনকে চ্যালেঞ্জ করে করা ১৪৩টি আবেদনের শুনানি হয়েছে। কিন্তু আদালত আইনকে স্থগিত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্টো এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে জবাব দিতে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এসব আবেদনকারীর মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস, ডিএমকে, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ ও কিছু বাম দল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। তারা দাবি করেছে, এই আইনটি বেআইনি। এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ যে সাংবিধানিক কাঠামো তার লঙ্ঘন।

ডিসেম্বরে ভারতের পার্লামেন্টে পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন। তবে এতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হয়েছে বলে এর কড়া সমালোচনা হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে নাগরিকত্ব সংশোধনী এবং ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর)-এর মাধ্যমে মুসলিমদের টার্গেট করা হবে। কিন্তু আইনটির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপির অন্য নেতারা। তারা দাবি করছেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য। এ সপ্তাহে এক র‌্যালিতে বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, আইনের বিরোধিতা করার জন্য তিনি দাঙ্গা বাধিয়ে দিচ্ছেন এবং ট্রেন পোড়াচ্ছেন।

বিজেপি শাসিত নয়, এমন অনেক রাজ্য থেকে আইনটির তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, কংগ্রেস শাসিত মধ্য প্রদেশ ও পাঞ্জাব। এসব রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরোধী একটি প্রস্তাব পাস করেছে সংশ্লিষ্ট বিধানসভায়। এনপিআর এবং সিএএ বাস্তবায়নের কাজ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।