রংপুর বিভাগ

চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ীর মধ্যে রেল যোগাযোগের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে

বখতিয়ার ঈবনে জীবন,ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ীর মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। দীর্ঘ ৫৫ বছর এই রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর এই রেলপথ দুই দেশের সরকারের মতানৈক্যের ভিত্তিতে আবার চালু হতে যাচ্ছে এই রেল যোগাযোগ।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের আগে বৃটিশ আমলে এই রেলপথ দিয়ে সরাসরি ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিম বাংলার কলকাতা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করত। ভারত পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরও ট্র্যানজিট পয়েন্ট চিলাহাটিকে ব্যাবহার করে রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা অব্যাহত ছিল। উপরন্ত বাংলাদেশের চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ী পর্যন্ত একটি পাসর্পোট ট্রেন ১৯৫৩ সাল থেকে চলাচল শুরু করে। ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের সময় এই রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও আজ অব্দি কোন সরকার এই রেলপথ চালুর ব্যাবস্থা গ্রহন করে নাই।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে রেলের অভাবনীয় উন্নয়নকল্পের সঙ্গে ছিট মহল চুক্তির পর পরে ভারতের সঙ্গে বন্ধ হওয়া বিভিন্ন রেলপথ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করে, তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দুই দেশের সরকার ২০১৫ সালে চুক্তি মোতাবেক চিলাহাটি ও হলদিবাড়ীর মধ্যে ১০.০০০ কিলোমিটার রেলপথ যোগাযোগের পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু করে। বাংলাদেশের অংশে ৬.৭২৪ কিলোমিটার রেলের কাজ গত ২২ শে সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রীভা গাঙ্গুলির উপস্থিতিতে এই কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ভারতীয় অংশে সীমান্তের জিরো লাইন পর্যন্ত ৩.২৭৬ কিলোমিটার রেলপথ যোগাযোগের কাজ ইতি মধ্যেই সম্পুর্ণ করেছে।এই রেলপথ নিমার্ণে ৮৪ কোটি টাকা ব্যায়ে ঠিকাধারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্র্যাক্সার কাজ করে চলছে। ইতি মধ্যে ৪০ ভাগ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানান ম্যাক্স কোঃ চিলাহাটি দায়িত্বরত ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সিহাব।

চিলাহাটি স্টেশন মাষ্টার মবিন উদ্দিন জানান যে,কাজ খুব সুন্দর ভাবে চলছে আশা করছি আগামী জুনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেলযোগাযোগ শুরু হবে।

এই কাজের মধ্যে চিলাহাটি স্টেশনের আশেপাশে পুকুর ও খাল খন্দে প্রায় ৬ একর জমিতে মাটি ভরাটের কাজ, লুপ লাইন ২.৩৬ কিলোমিটার স্থাপন, ৭টি ব্রিজ নির্মাণ, ২টি লেভেল ক্রসিং ,এপ্রোচ রোড ১১০০ মিটার ও ১টি দ্বিতল ভবন রেষ্ট হাউজ, ইমিগ্রেশন ও কাষ্টমস হাউজ, এ্যাটেন্টডেন্ট ব্যারাক, নির্মাণ মেশিন রুম, টিএক্সার অফিস সহ অন্যানা স্থাপনা নির্মাণ করা হবে বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়। আগামী ২০২০ সালে জুন মাসে এ কাজ সমাপ্ত হবে বলে জানা গেছে এবং দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স মাধ্যমে রেল যোগাযোগ উদ্বোধন করবে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।