জাতীয়

করোনা ভাইরাস আর লকডাউন সংকটে বিপর্যস্ত আম চাষীরা

শেয়ার করুন

বিডি রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম :

আমের অঞ্চল হিসেবে প্রসিদ্ধ রাজশাহীর আম উৎপাদনকারীরা এ বছরের প্রথম থেকেই বৈরি আবহাওয়ায় উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছিলেন। এরপর করোনা পরিস্থতিতে যানবাহনের অভাবে পাইকারি ক্রেতা না থাকায় আমের বাজারজাতকরণ নিয়েও যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন তারা।

মে মাসের শেষে আম পাড়ার মৌসুম শুরু হবার আগে আমের বাজারজাতকরণে সরকারের গৃহীত নানান পদক্ষেপে তারা যখন আবার আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন, সেই মুহূর্তে বৃহস্পতিবার তাদের আম বাগানগুলো ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কবলে পড়ল।

করোনার লকডাউনের মধ্যে ঝড়ে ঝরে পড়া আম বিক্রি করার কোন জায়গা না থাকায়, আম উৎপাদনকারীরা বলছেন চলতি মৌসুমে আম নিয়ে তাদের শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্পান দেশের উপকুলীয় অঞ্চলের সাতক্ষীরাতে ঘন্টায় ১৫১ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়েছে এবং রাজশাহী অঞ্চলে ঘন্টায় ৫৯ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে।

সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলেছেন সারাদেশের মোট আম বাগানের ১০ শতাংশ ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং সাতক্ষীরাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের আম উৎপাদনকারীরা বলছেন, ঝড়ে তাদের বাগানগুলোতে অর্ধেকেরও বেশি আম ঝরে গেছে। এমনকি অনেক আম গাছ উপড়ে গেছে। ঝরে পড়া আমের খানিকটা অংশ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এক টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে গেলেও, বেশিরভাগ আম কুড়িয়ে নিতেও কেউ আসে নি, বাগানেই পড়ে থেকেই আম নষ্ট হচ্ছে।

আম উৎপাদনকারীরা দাবি করেছেন, সরকার যদি তড়িৎ গতিতে ফল প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঝরে পড়া আমগুলো কিনে নেয়ার ব্যবস্থা করতে পারে তাহলে তাদের দুর্দশা কিছুটা হলেও কমবে।

আম চাষীদের বাজারে আম নেয়ার দৃশ্য

ঝড়ে পড়া আম বিক্রি

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সরফ উদ্দিন আম উৎপাদনকারীদের দাবির উত্তরে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন একটি স্থান নির্বাচন করে আম উৎপাদনকারীদের আহ্বান জানাতে পারে সেখানে ঝরে পড়া আম নিয়ে যেতে এবং ফল প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পগুলোকে সেখানে ডাকতে পারে সেই আমগুলো কিনে নেবার জন্য।

“প্রায়ই ঝড়ে আম পড়ে। ঝরে পড়া আম কেনার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না। কিন্তু এই আমগুলোর যথেষ্ট খাদ্যমান আছে। এ আমগুলোর ভাল ব্যবহার কীভাবে হতে পারে সে বিষয়ে সরকারের একটি নির্দিষ্ট নীতি থাকা উচিৎ,” বলছেন ড. ড. সরফ উদ্দিন।

ড. সরফ উদ্দিন গত এক দশকের বেশি সময় ধরে আম গবেষণায় নিয়োজিত এবং রাজশাহীতে তার নিজস্ব আম বাগান গড়ে তুলেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তার বাগানের সম্ভাব্য মোট ১২ টন আমের মধ্যে প্রায় দুই টন আম ঝড়ে পড়ে গেছে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আম উৎপাদনকারী আনোয়ার হোসেন পলাশ বলছিলেন, “ঝড়ের তান্ডব দেখার পর আমার মাথা কাজ করছে না। কোন কিছুই সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারছি না।”

তিনি জানিয়েছেন, তার ১৩ একরের আম বাগানে অন্তত ৬০০ মণ আম হতো। ঝড়ে ৪০০ মণের মত আম পড়ে গেছে। ঝরে পড়া আমের বেশিরভাগই ছিল ফজলি ও আশ্বিনা জাতের।

“আমাদের এখানে প্রথা আছে যে আম গাছে থাকা অবস্থায় বাগান মালিক ছাড়া অন্য কেউ আম পেড়ে খাবে না। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে ঝরে পড়া আম বাগান মালিক কখনো তাকিয়েও দেখবে না। আম্পানে ঝরা আমের অল্প কিছু স্থানীয়দের কেউ কেউ কুড়িয়ে নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে বেচে দিয়েছে।

”তারপরও বাগানে অনেক আম পড়ে আছে। সেগুলো কুড়ানোরও কেউ নেই, কেনারও নেই। করোনার মধ্যে কেউ তো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না, পরিবহনও সেরকম মিলছে না। সব মিলিয়ে মাথায় হাত পড়েছে আমাদের,” বলছিলেন আনোয়ার হোসেন পলাশ।

তিনি জানিয়েছেন, বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা ঝরে পড়া যেসব আম সংগ্রহ করেছেন এক টাকা কেজি দরে, স্থানীয় বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে পাঁচ টাকা থেকে ২০ টাকা কেজি দরে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে আমগুলো পাকার পর বাজারে নিতে পারলে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপাত্ত অনুযায়ী, দেশটিতে মোট গড় আম উৎপাদন হয় ১২ লাখ টন। মোট উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি আম আসে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলো থেকে। বাকী অর্ধেকের এক ভাগেরও কম আসে রংপুর ও খুলনা বিভাগ থেকে এবং বাকী অংশ আসে দেশের অন্য পাঁচটি বিভাগ থেকে।

দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম বাগান রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়, কিন্তু বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমগাছ রোপনের ঘনত্ব বেশি থাকায় নওগাঁ জেলার আম উৎপাদন, জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

আম উৎপাদনকারী রবিউল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার ৩০ একরের নিজের আম বাগানের পাশাপাশি নওগাঁতেও ১৫ একর লিজ নেওয়া জমিতে আম বাগান গড়ে তুলেছেন।

খুলনায় হিমসাগর নষ্ট

তিনি জানিয়েছেন, নবাবগঞ্জে তার বাগানগুলোতে ২০ ভাগ আম আম্পানে ঝরে গেছে, এবং নওগাঁতে তার ক্ষতি হয়েছে ৩০ ভাগ আম।

“ঝড়ে যেটুকু পড়েছে সেটুকু তো গেছেই, কিন্তু গাছে যে আমগুলো রয়ে গেছে সেগুলোর মধ্যেও অনেকগুলো নষ্ট হবে। ঝড়-বৃষ্টির কারণে আম যে ঘর্ষণ খেয়েছে, সেগুলোতে আমে দাগ পড়ে যাবে, ফলনও কমে যাবে”, বলছিলেন মি. ইসলাম।

খুলনা অঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলা সদরের আম উৎপাদনকারী এসএম লিয়াকত আলী জানিয়েছেন তাদের দু:খ বর্ণনাতীত।

“আমাদের এখানে প্রায় সব বাগানের আমগুলোর ৮০ ভাগ তো ঝরে গেছেই, অনেক আম গাছও উপড়ে গেছে। যে গাছগুলো বেঁচে আছে সেগুলোর প্রত্যেকটির ডালপালা সব ভেঙে গেছে”, তিনি বলছিলেন।

মোবাইল ফোনে তিনি জানিয়েছেন, তার ২৫০ টি আম গাছের মধ্যে ৫০ টি উপড়ে গেছে। “গাছের মায়াতে আম কুড়াতে আর যাইনি। স্থানীয়রাই সেগুলো কুড়িয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের চাহিদা তো আর বেশি নয়, বেশির ভাগ আম বাগানেই পড়ে আছে”।

খুলনার দীঘলিয়া থেকে আম উৎপাদনকারী শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন, তার অর্ধেকের বেশি আম নষ্ট হয়েছে। নষ্ট আমগুলোর মধ্যে হিমসাগর আমই বেশি যেগুলো আর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পেকে যেত।

“আমি ঝরে পড়া আম প্রায় সবগুলোই কুড়িয়ে নিচ্ছি। বিক্রি করার মত পরিস্থিতি নেই, তাই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আর পাড়া-প্রতিবেশির মধ্যে বিলিয়ে দিব। তারা অন্তত আচার করতে পারবে, জুস বানিয়েও খেতে পারবে,” শাহাদত হোসেন বলছিলেন।

আইনের পেশা থেকে অবসর নেয়ার পর আম উৎপাদনে নেমেছেন শাহাদত হোসেন।

“আম মৌসুম আসলে গোটা দেশেই সাড়া পড়ে যায়। দেশের কত মানুষের অর্থ জোগায় এই আম। অথচ এই আম কীভাবে ব্যাবস্থাপনা হবে তার জন্য সরকারি কোন উদ্যোগই নেই, এটা ভাবা যায় না,” তিনি বলছিলেন।

আম চেনার যত উপায়

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আনিসুর রহমান জানিয়েছেন সেখানকার অধিকাংশ বাগানের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের বেশি আম ঝরে পড়েছে।

“ঝড়ের পর আমি অন্যের বাগান দেখেছি। নিজের বাগানে যাওয়ার সাহস হয় নি। নিজের বাগানের এত আম নষ্ট হতে দেখলে ঠিক থাকতে পারতাম না,” তিনি বলছিলেন।

“যা গেছে তা নিয়ে তো আর দু:খ করে লাভ নেই। যেটুকু আছে সেগুলো কীভাবে বাজারজাত করব সেটাই এখন চিন্তা,” আনিসুর রহমান বলেন।

আমের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সমস্যা

চাঁপাইনবাগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আম উৎপাদনকারীদের নেতা ইসমাইল খান জানিয়েছেন, এ বছর করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমের ব্যবসা কেমন করে হবে সে বিষয়ে কোন পরিষ্কার ধারণা কারোর না থাকাতে, অনেকে আম গাছের পরিচর্যা করা থেকে বিরত ছিলেন।

“গাছগুলোতে আম প্রাকৃতিকভাবেই বড় হচ্ছিল”।

“জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যখন গাছে মুকুল আসছিল তখন কয়েকবার বৃষ্টি হওয়াতে অনেক মুকুল ঝরে পড়েছিল। আবার মার্চের মাঝামাঝিতে যখন ফল ধরতে শুরু করল, তখন দরকার ছিল প্রচণ্ড গরমের, কিন্তু তখনও রাতে ঠাণ্ডা পড়ত, কুয়াশা ঝরত। এতে করে এবার ফলন কমে গেছে,” বলেন ইসমাইল খান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. মোশাররফ হোসেন বলেছেন এবার অন্তত ২০ ভাগ ফলন কমে গেছে বৈরি আবহাওয়ার কারণে।

“এবছর গ্রীষ্ম এসেছে দেরিতে। প্রলম্বিত শীতের শেষভাগে আবার কয়েকবার বৃষ্টি হয়েছে। এতে করেই ফলন কমেছে,” তিনি বলেন এবং যোগ করেন যে, আমের মৌসুমও দুই সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে দেরিতে গ্রীষ্ম আসার কারণে।

স্থানীয় প্রশাসনগুলো নির্ধারণ করেছিল, ১৫ মে থেকে আম পাড়া শুরু হবে। কিন্তু ঐ সময়ে অধিকাংশ আম উৎপাদনকারী আম পাড়া শুরু করতে পারেননি। তারা বলেছেন, মে মাসের শেষের কয়েক দিনের আগে আম পাড়া শুরু করা যাবে না।

রাজশাহীর বাঘার আম উৎপাদনকারী শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতি বছর গাছে মুকুল আসার আগে পাতা দেখে আম বাগান বিক্রি হওয়া শুরু হয়। ফল গাছে থাকা অবস্থাতেই বাগানের হাত বদল হয় তিনবারের বেশি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা রাজশাহী অঞ্চলে আসেন, থাকেন, বাগান ঘুরে দেখে মৌসুমের জন্য বাগান কিনে রাখেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চলের অনেক ব্যবসায়ী তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের অগ্রিম টাকাও দিয়ে রাখেন বাগান কেনার জন্য, জানান মি. ইসলাম।

“এ বছর করোনার কারণে যানবাহন বন্ধ থাকায় একজন ব্যবসায়ীও আসতে পারেন নি। এখন আর এক সপ্তাহের মধ্যে আম পাড়া শুরু হবে, অথচ সব বাগান এখনো অবিক্রিত আছে। ব্যবসায়ীরা কোন অগ্রিম টাকাও দেননি, কারণ এ বছরের আম ব্যবসা নিয়ে তারাও সন্দিহান,” তিনি বলেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আম ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান সুমন জানিয়েছেন, গত বছরেও তিনি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে পাঁচ কোটি টাকার আম কিনেছিলেন।

“এ বছর কোন বিনিয়োগ করতে সাহস পাইনি, কারণ করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছু বদলে গেছে।”

তিনি বলেছেন, “রাজশাহী যাবার কোন যানবাহন নেই। যদিও বিকল্পভাবে যেতে পারি, পথে নানান বাধা, গ্রামবাসীরাও বহিরাগতদের ভাল চোখে দেখবে না। থাকব কোথায়, খাব কী? আবার আম নিজের জেলায় পরিবহন করতে পারব কি না সেখানেও অনিশ্চয়তা, গাড়ি নেই।

”গাড়ি পেলেও পথে পথে চাঁদাবাজি তো থাকবেই। সবচেয়ে বড় কথা আম নিয়ে এসে বেচব কোথায়। বাজারে এমনিতেই ক্রেতা কম, তারপর দোকান খুলতে কত বাধা। কিভাবে ব্যবসা করব?”

কিন্তু গত সপ্তাহে সরকার রেলওয়েতে কম মূল্যে আম পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে। বিআরটিসির ট্রাকে করে আম পরিবহনের খরচও অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে। রাজশাহীতে আসলে ব্যবসায়ীদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও করবে স্থানীয় প্রশাসন।

পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করছে যে মৌসুমী ফল ব্যবসায় কোন বাধা থাকবে না।

শহরের আম উৎপাদনকারীরা সরকারি ব্যবস্থাপনাগুলোতে স্বস্তি প্রকাশ করলেও, যারা দূরবর্তী উপজেলার, তাদের চিন্তা কমছে না।

বাঘা উপজেলার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, সরকারি ব্যবস্থাপনাগুলো সময় সাপেক্ষ। কিন্তু আম পচনশীল, এগুলো দ্রুত বাজারজাত ও পরিবহন করা প্রয়োজন।

“সরকারি সুবিধাগুলো নিতে আমাদের সরকারের কাছে যেতে হবে। এত সময় কোথায়? সরকারি সুবিধা কাছাকাছি পেলে ভাল হত। অন্তত সরকার এটুকু নিশ্চিত করুক যে আমরা আম নিয়ে রাস্তায় যাতে কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হই”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা