হেড লাইন

করোনায় নতুন করে দরিদ্র হতে পারে ৫৪ কোটি মানুষ: অক্সফাম

শেয়ার করুন

বিডি রিপোর্ট টোয়েন্টিফোর ডটকম :

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ না নেয়া হলে নতুন করে দরিদ্রতার সম্মুখীন হতে পারে ৫০ কোটির বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে অর্থনীতি বন্ধের প্রভাবে দরিদ্রতা বিমোচনের বিরুদ্ধে লড়াই বৈশ্বিকভাবে এক দশক পিছিয়ে গেছে। সাব-সাহারান আফ্রিকা, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ পিছিয়ে গেছে ৩০ বছর। জি২০ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের এক ভার্চুয়াল বৈঠকের আগ দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে অক্সফাম। বৈঠকটিতে বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ মওকুফের পরিকল্পনা ও স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (এসডিআর) তৈরির মাধ্যমে আইএমএফের তহবিল বৃদ্ধির ব্যাপারে আলোচনার কথা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
অক্সফামের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা মহামারী শেষ হওয়ার মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যা দরিদ্রসীমার নিচে বাস করার আশঙ্কা রয়েছে। লন্ডনের কিং’স কলেজ ও দ্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি অনুসারে, করোনা মোকাবিলায় হওয়া অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্বজুড়ে আয় ২০ শতাংশ কমতে পারে।

এতে নতুক করে দরিদ্রতার মুখে পড়তে পারে ৫৪ কোটি মানুষ। তাদের দৈনন্দিন আয় ৫.৫০ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে। বিশ্বব্যাংকের দরিদ্রতার সংজ্ঞা অনুসারে, এই আয়কে সীমারেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর আড়াই লাখ কোটি ডলার সহায়তা প্রয়োজন।
অক্সফাম তাদের প্রতিবেদনে, দরিদ্র দেশগুলোকে জরুরি ত্রাণ প্যাকেজ দিতে আহ্বান জানিয়েছে। যাতে করে আয় হারানো ব্যক্তিদের ও ছোট আকারের ব্যবসাগুলোকে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করা যায়। দাতব্য সংস্থাটি বলেছে, এই সহায়তার অর্থ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে আসতে পারে। যেমন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১ লাখ কোটি ডলারের ঋণ মওকুফ করা ও অন্তত ১ লাখ কোটি ডলারের এসডিআর তৈরি করা।
অক্সফামের আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী নির্বাহী পরিচালক হোসে মারিয়া ভেরা বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারিতে সৃষ্ট বিপর্যয়কারী অর্থনৈতিক মন্দা বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু যেসব দরিদ্র শেষ ইতিমধ্যে বেঁচে থাকতে যুদ্ধ করছে, তাদের কাছে দরিদ্রতায় পতন ঠেকানোর কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা নেই।