অর্থনীতি

অবশেষে পেঁয়াজের দাম নিয়ে সুখবর

এখনও পেঁয়াজের বাজারে দামের আগুণ জ্বলছে। আর এ আগুণ নেভাতে আসছে নতুন পেঁয়াজ। এক সপ্তাহের মধ্যেই এ পেঁয়াজ বাজারে আসবে। জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয় পাবনায়। গত বছর এ জেলায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল। এ বছরও পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে আসছে নতুন পেঁয়াজ। কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, আর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাজারে পুরোপুরি চলে আসবে এই পেঁয়াজ। আগাম জাতের এই পেঁয়াজ বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই লাগামহীন পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল অবস্থায় চলে আসবে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক মো. আজহার আলী বলেন, গত আবাদ মৌসুমে দেশে মোট পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ২৩ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে পাবনা জেলায় আবাদ হয়েছিল সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টনের কিছু বেশি। এই ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির মধ্যে সাড়ে ছয় হাজার হেক্টরের বেশি জমির পেঁয়াজ আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই বাজারে আসবে। বাকি জমির পেঁয়াজ বাজারে চলে আসবে পর্যায়ক্রমে।

জানা গেছে, পাবনা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয় সুজানগর উপজেলায়। এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আগাম মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮০০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর বেশি জমিতে। এদিকে, দেশের চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় রাজবাড়ী জেলায়। আর এ জেলায় এবারও চলছে পুরোদমে চাষাবাদ। পেঁয়াজ শোভা পাচ্ছে মাঠে মাঠে। এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা এ পেঁয়াজ পুরোদমে বাজারজাত করতে পারবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছর পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছিল ২৮ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ১০৫ হেক্টর জমি বেশি।

অন্যদিকে, গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হয়েছে তিন লাখ ১১ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন বেশি। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২৭ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে দুই লাখ ৯৮ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন। আশানুরুপ আবাদ হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি বিভাগ বলছে, এবার পাবনা জেলার ৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর বিপরীতে পেঁয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন।

জানা গেছে, দেশের বাজারে এখনও পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি। ঢাকার খুচরা বাজারে শুক্রবার দেশি পুরোনো পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২৩৫ থেকে ২৫০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ ১৮৫ থেকে ২০০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২১৫ থেকে ২৩০ টাকা, চীনা ভালো পেঁয়াজ ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা ও মিসরীয় পেঁয়াজ মানভেদে ১৩৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যখন দেশে পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয় তখন বিদেশি পেঁয়াজের আমদানির কারণে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারে না আমাদের কৃষকরা। তাই আমরা পেঁয়াজের মৌসুমে তা আমদানি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। এবছর পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় আগামী বছর দেশে অনেক বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার যখন পেঁয়াজ উঠবে আমি কোনো ধরনের আমদানি করতে দেব না। আমার উৎপাদকদের দাম পেতে হবে। তারা যদি ভালো দাম পায় তাহলে কারও দরকার হবে না। তিন বছরে ইনশাল্লাহ আত্মনির্ভরশীল হব। প্রয়োজনে আমরা ভারতে রপ্তানি করব। তিনি আরও বলেন, গত ছয় দিন ধরে মিশর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ ঢুকতে শুরু করেছে। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ-তারা বলেছে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টন মাল দেবে। সবচেয়ে আনন্দের কথা তারা বলেছে, তারা এক টাকাও প্রফিট করবে না। যত কোটি টাকা লাগে ইনভেস্ট করবে। এদিকে, তিন গুণ বেশি ফলনশীল বারি ৪ এবং সারাবছর চাষের উপযোগী বারি ৫ জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করেছে মাগুরা আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র। গবেষকরা বলছেন, বার্ষিক ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এই পেঁয়াজ।