মানিকগঞ্জে ডাব পেড়ে খাওয়ার অপরাধে কলেজ ছাত্রকে নির্যাতন

SHARE

মানিকগঞ্জের ঘিওরে ডাব গাছে উঠার কারনে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।  উপজেলার কুস্তা পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কুস্তা গ্রামের মোঃ মজলিস খান মুন্সীর ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মোঃ ছাব্বির খান(১৯)সহ তার সাথে থাকা আরো ৪/৫ জন বন্ধুকে নিয়ে ডাব পেড়ে খাওয়ার জন্য কয়েক বন্ধু মিলে নারিকেল গাছে উঠে।  এ সময় মজিবর রহমান ও তার দুই ছেলে তাকে আটকালে তার সাথে থাকা বন্ধুরা পালিয়ে যায়।  মজিবর রহমান এবং তার দুই ছেলে মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন ও মিন্টু তাকে আটকে বেধরক মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হত দরিদ্র ঘরের মেধাবী ছাত্র ছাব্বির খান লেখাপড়ার খরচ যোগাতে সে দিন মজুরের কাজ করে।  ঘটনার দিন বন্ধুদের উৎসাহিত দুষ্টুমি বুদ্ধিতে ডাব পেড়ে খাওয়ার জন্য কুস্তা গ্রামের মৃত জলেশ খা’র ছেলে মজিবর রহমানের নারিকেল গাছে উঠে।  নারিকেল গাছে উঠার অপরাধে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্যাতনকারীরা তাকে রশি দিয়ে পেছনে হাত-পা বেঁধে মাটিতে উপর করে ফেলে কাঠের বাটাম দিয়ে মারাত্বকভাবে পিটায় এবং বুকের উপর পা দিয়ে চেপে ধরে রাখে।  পরে ছাব্বিরের আত্মচিৎকারে এলাকার লোকজন ও স্থানীয় মেম্বার মোঃ সূর্য মিয়া তাকে উদ্ধার করে।  বর্তমানে তার ভাঙ্গা হাতে রড পড়ানো হয়েছে।  হত দরিদ্র পরিবারটি তার চিকিৎসার খরচ মেটাতে না পেরে বাড়িতে নিয়ে আসলে এলাকায় চাঞ্চল্যকর ও হৃদয় বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়।  বর্তমানে সে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।  এছাড়া নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ছাব্বিরের পরিবার অসহায় দিন যাপন করছে বলে জানা যায়।
এ দিকে মজিবর ও তার দুই ছেলে ঘটনাটি অস্বিকার করে বলেন আমরা ছাব্বিরকে কোন মারধর করিনি,সে ডাব গাছ থেকে পড়ে তার হাত ভেংগে গেছে।
ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল ইসলাম জানান,ঘটনাটি আমি শুনেছি।  তবে এ বিষয়ে থানায় কোন মামলা হয়নি,মামলা হলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।