পলাশবাড়ীতে ওষুধের জন্য হাহাকার চলছে

SHARE

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা ঃ জীবন রক্ষাকারী ওষুধের জন্য পলাশবাড়ীতে হাহাকার চলছে। ৬দিন ধরে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পলাশবাড়ী উপজেলাসহ গাইবান্ধা সদর বাদে জেলার বাকি ৬টি উপজেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র ওষুধ সংকট।

জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিসিডিএস এর সাথে ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ফারিয়ার বিরোধের জেরে পলাশবাড়ীসহ জেলার বাকি উপজেলায় ওষুধ সরবরাহ বন্ধ। এতে মারাত্বক ঝুকির মুখে পড়েছে অসুস্থ রোগীরা। এরি মধ্যে বিসিডিএস গাইবান্ধা জেলা শাখা কর্তৃক জেলার অন্যান্য উপজেলার শাখার কমিটি বাতিল করায় বিরম্বনায় পড়তে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ জনগণ।

সোমবার সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্টের জন্য ইনসেপ্টা কোম্পানীর ইউন্ডোজ প্লাস ওষুধ পলাশবাড়ী শহরের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ঘুরে না পাওয়ায় আক্ষেপ করতে দেখা গেছে পলাশবাড়ী জৈনক্য এক ব্যাক্তির।

তিনি জানান, গত তিন ধরে এই ওষুধ পৌর শহরের কোন দোকানে সরবরাহ নাই। কাশিয়াবাড়ীর বেনজির জানান, তিনি সোমবার বিকালে সিজারিয়ান রোগীর জন্য সিভিট কিনতে গিয়ে দেখেন কোন দোকানে সিভিট নাই। একই রকম অভিযোগ করেন সদরের সোলায়মান আলী, নুনিয়াগাড়ীর রিপনসহ আরো অনেকে।

পলাশবাড়ীর হাইস্কুল মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ী দীপক কুমার সরকার জানান, ৬দিন ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস)র সাথে ওষুধ কোম্পানীর দুইজন প্রতিনিধির সাথে ঝামেলার সৃষ্টি হয়ে। এরই জেরে পলাশবাড়ী বিসিডিএস এর মুরাদকে আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির কিছু সিন্ধান্তের সাথে দ্বিমত থাকায় পলাশবাড়ীসহ জেলার বাকি উপজেলায় ফারিয়া কর্তৃক ওষুধ সরবারহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে করে জেলায় তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্টস্ সমিতি (বিসিডিএস) গাইবান্ধা জেলা শাখা কর্তৃক শনিবার সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডের কারনে ও মেয়াদ উর্ত্তীন্ন হওয়ার গাইবান্ধার ৬ উপজেলার বিসিডিএস এর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এতে করে ওষুধ ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গাইবান্ধা জেলার ওষুধ ব্যবসায়ী এবং ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের মধ্যকার দ্বন্দে জিম্মি হয়ে পড়েছে জেলাবাসী। ওষুধ সংকটের কারনে এক একটি ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৪০ ভাগের বেশি। জেলার ভুক্তভোগীরা ওষুধ ব্যবসায়ী ও ফারিয়ার মধ্যে দ্বন্দ নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাছাড়া যেকোন সময় মারাত্বক বিপর্যয় ঘটতে পারে।