রংপুরে ইসলাম ধর্ম ও নবী (সঃ) কে নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি, সংঘর্ষে ২জন নিহত, আহত-৬০

SHARE

ইসলাম ধর্ম ও নবী সম্পর্কে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুরে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে হামিদুল ইসলাম অজ্ঞাতসহ ২ জন নিহত হয়েছে। ৫ পুলিশসহ আহত হয়েছে প্রায় ৬০ জন। পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষ চলাকালীন সময় শতাধিক রাবার বুলেট, টিয়াসেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার চার উপজেলা থেকে ব্যাপক পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন সময় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরসহ লুটপাট এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ ৩ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। আজ সকালে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার সলেয়াশাহ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮শে অক্টোবর টিটু রায় নামে এক হিন্দু যুবক ‘এমডি টিটু’ নামের আইডিতে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর উক্তি দিয়ে পোষ্ট দিলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এই ঘটনায় দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জ সলেয়াশাহ এলাকায় বিক্ষুব্ধ মুসল্লী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচীও পালন করেছিলো। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়। জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এসময় ওই সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারীদের রাস্তা ছেড়ে দেয়ার আহবান জানায়। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের কথা কাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় সংঘর্ষ বেঁধে প্রায় ২ ঘন্টা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয় ৬০ জন। এদের মধ্যে হাবিব মিয়া, মাহবুব মিয়া, আলীম মিয়া, নাজির হোসেন, আলমি, জামিলকে তাৎক্ষনিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামিদুল ইসলাম নামে একজন মারা যায়। এরপর আরো একজনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মেডিকেল ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই গোলাম কিবরিয়া। আহতদের মধ্যে ৫ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন সআই সেলিম মিয়া, কনসটেবল নাসির হোসেন, রফিকুল ইসলাম। উত্তেজিত জনতা সলেয়াসা বাজার ব্রাক্ষমপাড়া, হিন্দুপাড়া, ঠাকুরপাড়ায় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে হিরেন বাবু, ধীরেন রায়, মন্টুর বাড়িসহ ২০ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। হিরেন জানান, উচ্ছশৃঙ্খল লোকজন এসে আমার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আগুনে আমার সব কিছু পুড়ে গেছে। মুসল্লি¬ আলিফ মিয়া ও রায়হান কবির জানান, আমরা নবীজী সম্পর্কে কটুক্তিকারির শাস্তির দাবিতে শান্তিপুর্ণ বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত )আজিজুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক অবরোধ থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালে জনতা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা টিয়ারসেল ও রবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ইটপাটকেলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় অগ্নিসংযোগকারী ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বর্তমানে এলাকায় স্থানীয়, হাইওয়ে পুলিশসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।