সেরা করদাতাদের প্রতিক্রিয়া : সবাই ঠিকভাবে কর দিলে দেশ এগিয়ে যাবে

SHARE

সবাই মিলে কর দিলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই যোগ্যদের সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি করের টাকার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করাও দরকার।

এই চাওয়া দেশের শীর্ষ করদাতাদের। গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছ থেকে সেরা করদাতা হিসেবে স্বীকৃতি নিতে গিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। এই স্বীকৃতি তাঁদের আনন্দিত ও গর্বিত করেছে বলে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের নির্মাণাধীন রাজস্ব ভবনে এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের স্বীকৃতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য।

এনবিআর প্রতিবছর নারী, প্রতিবন্ধী, ব্যবসায়ী, তরুণ, নতুন করদাতা এবং বিভিন্ন পেশার ভিত্তিতে শ্রেণি বিভাজন করে সেরা করদাতা নির্বাচন করে। এই তালিকায় থাকেন খেলোয়াড়, অভিনেত্রী, চিকিৎসক, স্থপতি, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

চিকিৎসক শ্রেণিতে সেরা করদাতার পুরস্কার পাওয়া পাঁচজনের মধ্যে শীর্ষ নামটি এ কে এম ফজলুল হকের। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেরা করদাতার স্বীকৃতি পাওয়ায় অবশ্যই ভালো লাগছে। জনগণের দেওয়া করের টাকায় সরকার দেশে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এই প্রক্রিয়ার আমিও একজন অংশীদার।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মঙ্গলে আমার দেওয়া করের টাকা কাজে লাগবে, সেই আশা করছি।’

অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে প্রথমবারের মতো সেরা করদাতার পুরস্কার পেয়েছেন মেহের আফরোজ শাওন। তিনি বলেন, স্বীকৃতি সব সময়ই আনন্দের। সেরা করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া আরও বেশি আনন্দের। তিনি বলেন, ‘আমি ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত আয়কর দিচ্ছি। সবাই ঠিকভাবে কর দিলেই দেশ এগিয়ে যাবে।’

স্থপতিদের মধ্যে এবার তিনজন সেরা করদাতা হয়েছেন। স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘দেশের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আয়কর দেওয়া কর্তব্য মনে করি। সেই দায়িত্ব পালন করতে সব সময়ই চেষ্টা করি। সবাই ঠিকভাবে কর দিলেই দেশ গঠনের দাবি আরও জোরালো হবে।’

ব্যবসায়ী শ্রেণিতে সেরা করদাতার পুরস্কার পাওয়া আবদুল কাদির মোল্লা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘২৮ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কর দিচ্ছি। পুরস্কার পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ভালো লাগছে। এতে কর দিতে উৎসাহ ও উদ্দীপনা আরও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমি কর দিই না। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা থেকেই এত দিন ধরে কর দিয়ে আসছি।’

আবদুল কাদির মোল্লা বলেন, ব্যক্তিগত পুরস্কারের পাশাপাশি এবার তাঁর পরিবার সেরা করদাতা হিসেবে কর বাহাদুর স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁর পরিবারের মোট সাতজন নিয়মিত কর দেন।

ব্যক্তি করদাতার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও সেরা করদাতার স্বীকৃতি দিয়েছে এনবিআর। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান হলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ১১২ বছর ধরে এ দেশে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের জন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আর কর দেওয়ার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ।’

নাসের এজাজ বিজয় আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও সহায়ক করা প্রয়োজন। এ জন্য কর আদায় কাঠামোকে সহজ করতে হবে, করের হার না বাড়িয়ে আদায়ের উৎস বাড়াতে হবে এবং কর আদায়ে কারও প্রতি বৈষম্য করা যাবে না।