লালপুরে বিএনপি’র সদস্য ফরম বিক্রি ও নবায়নে অনিয়মের অভিযোগ

SHARE

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে বিএনপি’র সদস্য ফরম বিক্রি ও নবায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিএনপি’র সদস্য ফরম আ’লীগ থেকে বহিস্কৃত নেতাকে দিয়ে বিক্রি করানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার বিভিন্ন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এবং থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ পাপ্পুর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেন।

৭নং ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি ইসমাইল মন্ডল বলেন, আমি এই ওয়ার্ডে বর্তমান সভাপতি অথচ আমি কমিটিতে বহাল থাকা অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ পাপ্পু দলীয় নিয়ম কানুন কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আ’লীগ থেকে বহিস্কৃত সন্ত্রাসী সেকেন্দার আলী এবং খুন, সন্ত্রাসী হামলার আসামী আব্দুর রহিম সরকারকে দিয়ে বিএনপি’র সদস্য ফরম বিক্রি করতে দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে নান্দ গ্রামে পরপর দুটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। দুটি হত্যাকান্ডের সাথেই আব্দুর রহিম সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়াও নান্দ গ্রামের সংখ্যালঘুদের বাড়িতে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও নারী অপহরণ এবং বিস্ফোরক মামলাসহ অনেকগুলো মামলা হয়। সে কারণে তৎকালীন আ’লীগ সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মমতাজ উদ্দিন তাকে দল থেকে বহিস্কার করেন। তারপর ২০০২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সে বিএনপিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কিন্তু বর্তমান থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাপ্পু তাকে দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করছেন।

ওই ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি একটা বৃহৎ দল। এই দলে বহিরাগত সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করলে দলের চরম ক্ষতি হবে। অথচ উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ পাপ্পু তার তার আত্মিয় হওয়ার কারণে দলের দিকে না তাকিয়ে নিজের স্বার্থে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে দলের কর্মকান্ড করাচ্ছেন। এছাড়াও তিনি জানান, বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, একাধিকবার পাপ্পুকে বলা হলেও সে আমার কোন কথা শোনেনি। এছাড়াও ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুন্নবী বলেন, আমি বর্তমান ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। অথচ আমাকে বিএনপির সদস্য ফরম দেওয়া হয়নি। আমার মতো অনেক নেতাকর্মীকে সদস্য ফরম দেওয়া বা নবায়ন করতে দেওয়া হয়নি।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিািভন্ন ওয়ার্ডেরই পাপ্পুর বিরুদ্ধে অভিযোগ সহ ফেসবুকে পাপ্পুর কার্যকলাপের নিন্দা প্রকাশ করে বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা স্ট্যাটাস দিয়েই চলছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মনে করে এতে দলের মধ্যে আন্ত:দ্বন্দ বেড়েই চলছে এবং এর ফলে দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড গতিশীল করার কাজ চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।