কাস্টমের শর্তে অচল বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, পাথর আমদানি বন্ধ

SHARE

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি : বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কাষ্টমস্ এর আরোপিত শর্ত মানতে রাজি না হওয়ার কারনে গত ৫ নভম্বেন রবিবার থেকে এই বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। ফলে অচল হয়ে পড়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে রাজস্ব আয়ের অন্যতম মাধ্যম পাথর আমদানি। কাষ্টমস আইনের শর্তানুযায়ী আমদানী করা মালামাল প্রথমত স্থল বন্দরের ইয়ার্ডে রাখার নিয়ম থাকলেও এ বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের আমদানিকৃত পাথর বন্দর প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এর নির্দ্ধারিত সীমানার মধ্যে আনলোড করে আসছে। গত ১ নভেম্বর একটি পাথর বোঝই ট্রাকে অবৈধভাবে ২০টন মটর যন্ত্রাংশ পাচার করার সময় বাংলাবান্ধা বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এই মালামাল পাচারের ঘটনা নিয়ে বন্দরে তোলপাড় শুরু হলে কাষ্টমস কতৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের ইয়ার্ডে মালামাল আনলোড করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা কাষ্টমসের এই নির্দেশনা বাস্তব সম্মত নয় এমন অভিযোগে আমদানী রপ্তানী বন্ধ করে দেয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে আরোপিত শর্তে জাতীয় স্বার্থে এটি বলবদ থাকবে মানা নামানা ব্যববসায়ীদের বিষয়। ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে বন্দরের বাইরে মালামাল আনলোড করার অনুমোতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বাইরে মালামাল আনলোডের সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যাবসায়ীই অবৈধ আমদানী কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত হচ্ছেন। এদিকে এই বন্দর দিয়ে অবৈধভাবে ২ কোটি ১৪ লাখ টাকা মুল্যের ২০ টন গাড়ির যন্ত্রাংশ ( লোড স্প্রিং) আটকের ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলা ও গাফিলতির জন্য কাষ্টমসের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এর বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া থানায় মামলা হলে আদালত ভারতীয় ট্রাক চালককে জেল হাজতে প্রেরন করে। এই অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তদন্ত টিম গঠন করা হয়। বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার সহ আমদানিকৃত সকল মালামাল বন্দর ইয়ার্ডে আনলোড করার শর্ত আরোপিত করে বন্দর কাষ্টমস। কিন্তু এই শর্ত মানতে নারাজ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা জানায়, বন্দরে ভিতর পাথর আনলোড করে কাষ্টমস যাচাই হবার পর আবারো লোড করে ব্যবসায়ীদের আড়তে পাথর স্থানান্তর করতে পরিবহন খরচ সহ অবকাঠামগত সমস্যা বাড়বে। ফলে লোকশানে পড়বে ব্যাবসায়ীরা। তাই কোন ভাবেই বন্দর কাষ্টমস এর এই শর্ত মানবেনা তারা। প্রয়োজনে আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রাখবে ।

এদিকে ভুটান ও ইন্ডিয়ার প্রায় শতাধিক পাথর বোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করলেও আমদানিকারকরা তা বন্দরে আনলোড করেনি। ফলে এই ট্রাকগুলো বন্দরে আটকে পড়েছে। উল্লেখ্য যে.বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরে আমদানী রফতানী কার্যক্রম শুরু পর থেকে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি অনিয়ম ফ্রি স্টাইলে চলে আসছিল। পন্য আমদানীতে একের পর এক কেলেংকারীর ঘটনার ব্যাপারে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হননি কাষ্টমস কতৃপক্ষ।