‘১২ আসামির স্বীকারোক্তি অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট’

SHARE

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ১২ আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক ১৩টি জবানবন্দিই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট বলে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্কে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

মঙ্গলবার ওই ঘটনার হত্যা ও বিস্ফোরক দুই মামলায় স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউর সৈয়দ রেজাউর রহমান সপ্তম দিনের যুক্তিতর্কে এ দাবি করেন। এদিন বেলা ১১টায় মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন রেজাউর রহমান। তিনি প্রায় বেলা ২টা পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণে আসা যুক্তি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এদিন রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আগামীকাল বুধবার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার একনম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অস্থায়ী এজলাসে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ গত ২৩, ২৪, ২৫, ৩০, ৩১ অক্টোবর ও গত ৬ নভেম্বর যুক্তি উপস্থাপন করেন।

রেজাউর রহমান যুক্তি উপস্থাপনকালে বলেন, ওই নৃশংস হামলায় জড়িত থাকার দোষ স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ১২ জন আসামি ১৩টি জবানবন্দি পেশ করেছেন। আসামিদের মধ্যে জঙ্গি মুফতি হান্নান দুটি জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিগুলো অখণ্ডনযোগ্য। যা বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে। আসামিপক্ষ জেরা করে ওই জবানবন্দি খণ্ডন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, এ মামলার সাক্ষীদের মধ্যে ১১জন সাক্ষী ওই ভয়াবহ ঘটনা বিষয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতেও তারা ওই জবানবন্দির সমর্থনে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া ১২ জন আসামির ১৩টি জবানবন্দিই এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান এ কৌঁসুলি বলেন, ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। এ মামলায় পুলিশের প্রাক্তন আইজি আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার প্রাক্তন তিন তদন্ত কর্মকর্তা-সিআইডির এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন।

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিযোগপত্রে ৪০৮ জন, সম্পূরক অভিযোগপত্রে ৮৩ জন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে আরো ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালত ২০১১ সালের ২৫ আগস্ট এবং বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে আনা মামলা মহানগর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ আমলে নেয় ২০১১ সালের ১৪ জুলাই।

প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল, খন্দকার আবদুল মান্নান, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী নজরুল ইসলাম, আব্দুল সোবহান তরফদার আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ শুনানির সুযোগ পাননি। এর আগে গত ৩০ মে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গত ১১ অক্টোবর আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়। বিভিন্ন সময়ে ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক।