ইসলামের দৃষ্টিতে প্রেম করা জায়েজ কিনা ?

SHARE

অনেকের মুখে বলতে শুনেছি যে প্রেম নাকি পবিত্র জিনিস এটা কতখানি সত্য এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এটা সত্য।

প্রেম করা ইসলামে জায়েজ কিনা অর্থাৎ বিয়ের আগে নারী-পুরুষের প্রেম সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? উল্লেক্ষ্য, এখানে প্রেম বলতে, কোনরকম যিনা কিংবা হারাম কাজ না করে ইসলামের পর্দার সকল বিধিনিষেন মান্য করে যদি নারী-পুরষ একে অনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং একে অন্যকে ভালবাসে সেটা কি ইসলাম সামর্থন করে ?

“আমি ইসলামিক টিভির এক আনুষ্ঠানে একজন বক্তাকে বলতে শুনেছিলাম যে, যদি নারী-পুরুষ উভয়েই ইলামের সকল বিধিনিষেদ মান্য করে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়তুলে তাহলে তেমন কোন বিধিনেষধ ইসলামে নাই । এ ব্যাপারে ইসলাম নাকি নিশঃচুপ আথাৎ করা যাবে যদি যিনা এবং পর্দা ভঙ্গ না হয়।”

কিন্ত শরিয়ত ও অভিজ্ঞ আলেমদের মতে বিবাহ পূর্ব প্রেম হারাম। এব্যপারে কিছু দলিল নীচে উল্লেখ করা হল-
“স্বাধীনভাবে লালসা পূরণ কিংবা গোপনে লুকিয়ে প্রেমলীলা করবে না” (সূরা আল মায়িদা: ৫)
এরপর সূরা নূর এর ৩০ নং আয়াতে পুরুষদের চোখ নীচু রাখতে এবং লজ্জা স্থান হিফাজত করতে বলা হয়েছে।
৩১ নং আয়াতে নারীদেরও একই কথা বলা হয়েছে, পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর নারীরা কাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবে তাদের একটা তালিকা দেওয়া হয়েছে।
সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে পর্দা করার নির্দেশ আরো পরিস্কার ভাষায় বলা হয়েছে।

যেখানে দৃষ্টি নীচু ও সংযত রাখা, লজ্জা স্থান হিফাজত করার কথা এবং পর্দা করার কথা বলা হয়েছে আর সূরা মায়িদাতে গোপন প্রেমলীলাকে নিষেধ করা হয়েছে সেখানে বিবাহ পূর্ব প্রেম বৈধ হতে পারে কি করে? এটা হারাম।

জিনা তথা অবৈধ শারীরীক সম্পর্ক হারাম। (সূরা ইসরা আয়াতঃ ৩২) (সূরা ফুরকানঃ ৬৮)
জিনার নিকট যাওয়াই নিষেধ অর্থাৎ যে সকল জিনিস জিনার নিকটবর্তী করে দেয় তার কাছে যাওয়াই নিষেধ।
বিবাহ পূর্ব প্রেম নর-নারীকে জিনার নিকটবর্তী করে দেয় আর জিনা মারাত্মক একটি কবিরা গুণাহ।

বিবাহপূর্ব প্রেম অনেক সময় বান্দাহকে শিরকের নিকটবর্তী করে দেয়।
কারণ অনেক সময় তারা একে অপরকে এতটাই ভালভাসা শুরু করে দেয় যে প্রকার ভালভাসা পাওয়ার দাবীদার একমাত্র আল্লাহ। (সূরা বাকারাঃ১৬৫)

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের মুসলিম ভাই ও বোনদের এই হারাম কাজ থেক হিফাজত করুন। আমীন।