বাঙালিও পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে!

SHARE

পরাধীনতার শৃংঙ্খল ভেঙ্গে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ।  স্বাধীন স্বার্বভৌম রাস্ট্র হিসেবে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ।  দরিদ্রতা কে জয় করে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে শতবাধঁ ভেঙ্গে সফলতার স্বর্ণ শিখরে পৌছতে কাজ করছে।  আমরা অলস নই আমরাও পারি।

মানবসম্পদ বাংলাদেশের এক নম্বর সম্পদ।  এ সম্পদকে ব্যবহার করে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।  বিশ্বের বুকে উন্নতির সোপান ধরে তুলতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সুনাম বয়ে আনছে।  এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ডুকে গেল বিস্ময়কর ভাবে এলিট ক্লাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে (বিএইসি) ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন লাইসেন্স দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)।  এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দেশগুলোর ক্লাবের (বিশ্ব পরমাণু ক্লাব) সদস্য হলো।

শনিবার ঢাকায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএইআরএ’র চেয়ারম্যান নঈম চৌধুরী বিএইসি’র চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার সাহার কাছে এ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।  সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়েছে।  লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।  আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী মূল নির্মাণকাজ শুরুর আগে এ লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এ অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সব ধরনের সেফটি মানদণ্ড ও গাইডলাইন এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে।

এছাড়া রাশান ফেডারেশন, ভারত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাসহ স্থানীয় ও নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে সব রেগুলেটরি ডকুমেন্টের কারিগরি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ মতামতও গ্রহণ করা হয়েছে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, এ লাইসেন্সের মাধ্যমেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল কাজ শুরু হবে।  বাংলাদেশ আজ থেকেই পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের দেশগুলোর ক্লাবে প্রবেশ করল।  মন্ত্রী আরও বলেন, এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ হচ্ছে।  এটি আমাদের জাতীয় আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করবে যে, বাঙালিও পরমাণু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ার মধ্যে মূল চুক্তি সই হয়েছে।  চুক্তি অনুযায়ী, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হবে এক লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি (১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার)।

২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  এর আগে ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে একটি কাঠামো চুক্তি করে সরকার এবং ২০১১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে দুই দেশ চুক্তি করে।

চলতি বছরেই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির মূল কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।  এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিট ২০২২ সালে এবং একই ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৩ সালে চালু হবে।  সরকার ২০২৩ সালে প্রথম ও ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট বুঝে নেবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ ফ ম রুহুল হক এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, রাশিয়ার রেগুলেটরি সংস্থা রোস্টেকনজরের ডেপুটি চেয়ারম্যান আ্যলেক্সি ফেরাপনটভ এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর উপস্থিত ছিলেন।