ভাতিজিকে পুড়িয়ে মারা চাচি গ্রেপ্তার

SHARE

নরসিংদীর শিবপুরে অবৈধ সম্পর্ক দেখা ফেলার অপরাধে ভাতিজিকে পুড়িয়ে মারা সেই চাচি বিউটি বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিউটি বেগম উপজেলা খৈনকুট গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সালাম মিয়ার স্ত্রী। আর নিহত আজিজা সালামের ভাই আব্দুস সাত্তারের ছোট মেয়ে।

এর আগে, চাচির পরকীয়ার সম্পর্ক দেখে ফেলায় ১৩ বছরের কিশোরী আজিজা খাতুনকে প্রথমে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর গত শুক্রবার গাছের পাতা কুড়ানোর সময় বিউটি বেগম ও তার ভাই রুবেল মিয়া মিলে আজিজা তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়।

পরে পরিকল্পনা মাফিক রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির অদূরে একটি উঁচু টিলায় নিয়ে আজিজার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় তার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আগুনে পুড়তে দেখেন।

এরপর আজিজাকে উদ্ধার কর প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে নিরপরাধ শিশুটিকে নিষ্ঠুরভাবে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রশাসনজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। ঘটনার রহস্য উন্মোচনে মাঠে নামে পুলিশ। সন্তানের দাফন শেষে শনিবার রাত ১১টার দিকে বিউটি বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা করেন সাত্তার মিয়া। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— বিউটি বেগমের মা সানোয়ারা বেগম, তার ভাই রুবেল মিয়া ও ফুফুশাশুড়ি তমুজা বেগম। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। এরই মধ্যে তমুজা বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে তমুজা বেগম স্বীকার করেন, পরকীয়ার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই পরিকল্পিতভাবে আজিজাকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর বিউটি বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। প্রেমিকের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা শুরু করেন তিনি। এরই মধ্যে বিউটি বেগমের সঙ্গে তার প্রেমিকের অবৈধ মেলামেশার দৃশ্য দেখে ফেলে স্কুলছাত্রী আজিজা। এরপর থেকেই আজিজাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা শুরু করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন চুরির নাটক সাজানো হয়। ঘটনাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে পরিকল্পিতভাবে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। এরপর আজিজাকে অপহরণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।