আধিপত্য বিস্তারে ক্ষমতাসীন দুপক্ষের দ্বন্দ্ব চরমে

SHARE

পরিবহন সেক্টরের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দ্বিধাবিভক্তি হয়ে পরেছে মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ। পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, বিক্ষোভ-মিছিল, সমাবেশ ও পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচী চলছে। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে জেলার অপর দুই সংসদ সদস্য, মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ, জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও জেলা শ্রমিকলীগের নেতা কর্মীরা। ক্ষমতাসীন দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

গত ২৫ অক্টোবর জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বাবুল সরকার ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন টিপু জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের নাম ভাঙ্গিয়ে তার ভাই মানিকগঞ্জর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ ইস্রাফীল হোসেন ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস ঘর দখল ও মালিক শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে বিরোধের সৃষ্ঠি হয়। এনিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

অপরদিকে সোমবার পাল্টা অভিযোগে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী নীনা রহমান, যুবলীগের সহ-সভাপতি সত্য সাহা ও সাধারন সম্পাদক তামজিদুল্লাহ প্রধান লিল্টু ,ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহমেদ বুলবুল, সাধারন সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কৃষকলীগের সভাপতি মো: মিজানুর রহমান(নজরুল),সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বাবুল সরকার ও সাধারন সম্পাদক মো: হানিফ আলী যৌথ প্যাডে স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে তারা দাবী জানান, মানিকগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস, মাইক্রোবাস, অটো টেম্পু. অনার্স গ্রুপ লাইসেন্স নম্বর-২৩/২০১১ টি ও ৭৭৮/০১১ এর সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন টিপু, সাধারন সম্পাদক মো: নজরুল ইসলাম নজু এবং মানিকগঞ্জ শ্রমিক লীগের সভাপতি ও মানিকগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল সরকার ও সাধারন সম্পাদক কাজী মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি বৈধ বলে দাবী জানান। এছাড়া মালিক ওনার্স গ্রুপ ও ইউনিয়নের অফিস ও টার্মিনাল দখল মুক্ত করার দাবী জানিয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদন পত্রে মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি এএম নাঈমুর রহমান দূর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি মমতাজ বেগম ও মানিকগঞ্জ পৌর সভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করার জন্য সুপারিশ করেন।

জেলা প্রশাসক মো: নাজমুছ সাদাত সেলিম আবেদনের কপি প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। আবেদন ও অভিযোগের কপির ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হবে বলে তিনি জানান।