মনপুরায় জোয়ারের পানিতে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে ৬ টি গ্রাম প্লাবিত ॥ নিখোঁজ ৩

SHARE

মোঃ ছালাহউদ্দিন,মনপুরা (ভোলাা)সংবাদদাতা ॥ ভোলার মনপুরা উপকূলে নি¤œ চাপের প্রভাবে মেঘনার জোয়ারের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হাজির হাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার সংলগ্ন পুর্ব পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার নতুন বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে পুর্ব সোনারচর গ্রাম ,নাইবের হাট পশ্চিম সোনারচর,চরজ্ঞান ও মনপুরা ইউনিয়নের পুর্বকুলাগাজীর তালুক ,কলাতলীচর এবং ৩নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরনিজাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানির তীব্র স্্েরাতে ভাঙ্গন এলাকায় ১টি ঘরসহ ৩ জন ভেসে জায়। এখনও কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভেসে যাওয়া তিনজনই নিখোঁজ রয়েছে। জোয়ারের পানিতে ৫ হাজার একর আমনের ক্ষেত প্লাবিত হয়। নিন্মচাপের প্রভাবে দিনভর ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারনে প্রাথমিক স্তরের ৪২ স্কুলের চুড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা সহ ১৬ হাই স্কুল-মাদ্রাসার সমাপনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। নদীপথে লঞ্চ-সীট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মনপুরা উপকূল বাসীর যোগাযোগ ব্যাবস্থ। প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্থানীয়রা।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্বপাশে ফকিরদোন এলাকার নবনির্মিত ভেড়ী বাধঁটি ৪ টি স্পটে ভেঙ্গে যায়। এই সময় ওই এলাকার একটি ঘর সহ তিন জন জোয়ারের পানিতে মেঘনায় ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জোয়ারের পানিতে নিখোঁজ তিনজন হলেন, ইলিয়াস, রুহুল আমিন, রাহাত। এদের সবার বাড়ি উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্বপাশে ফকিরের দোন এলাকায়। নিখোঁজ তিন ব্যাক্তিকে খুঁজতে তিনটি ট্রলার মেঘনায় গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক, আবদুল, রহিম, বাচ্চু জানান, নতুন আধা কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। তিনজন জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। আমনের ক্ষেত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। দিনের জোয়ারের চেয়ে রাতের বেলা জোয়ারের পানি বেশি হবে। এতে ঘর-বাড়িসহ সবকিছু ডুবে যাওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। প্লাবিত এলাকার মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার শহর রক্ষা বাঁধের উপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও ল্যান্ডিং স্টেশনের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে জোয়ারের পানি। জোয়ারের পানির চাপে হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্বপাশে ফকিরের দোন এলাকায় চার স্থানে নতুন আধা কিলৈামিটার এলাকায় বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে বির্স্তীন এলাকা। উপজেলার সকল স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সোনারচর, নাইবেরহাট, চরযতিন এলাকার বেড়ীবাঁধ জোয়ারের পানি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হাজির হাট ইউনিয়নের পুরান থানা সংলগ্ন লতিফ ভূইয়ার পুরানবাড়ী বেড়ীবাধঁটি প্রায় অর্ধেক ভেঙ্গে গেছে। উত্তর চরযতিন জামে মসজিদটি ভিটে অর্ধেকাংশ ভেঙ্গে গেছে। যে কোন সময় এই সমস্ত এলাকার বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া টানা বর্ষন ও বাতাসে উপজেলার সকল হাট-বাজার বন্ধ রয়েছে। মানুষ আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ছে।

এব্যাপারে হাজির হাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দ্বিপক বলেন,বেড়ীবাধটি ভেঙ্গে আমার ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। মানুষ খুব কষ্টে আছেন। দ্রুত বেড়ীবাধঁটি সংস্কারের দাবী করেনতিনি।

এব্যাপারে পানিউন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, নতুন বেড়ী বাধঁটি ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়েছি। আমি বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তপক্ষকে অবহিত করেছি। দ্রুত বেড়ীবাধঁটি সংস্কার করা হবে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোহাগ হাওলাদার বলেন, নতুন নির্মিত ভেড়ীবাধঁ ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে পরিদর্শন করি। প্লাবিত এলাকার মানুষের খোজ খবর নিয়েছি। নিখোঁজ ৩ জনকে উদ্ধারের জন্য ট্রলার পাঠিয়েছি। এখনও নিখোঁজদের কোন সন্ধান পায়নি। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি।

এব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন,নিন্মচাপের প্রভাবে বেড়ীবাধঁ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মানুষ খুব কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। প্লাবিত এলাকার মানুষের যাতে কোন কষ্ট না হয় তার জন্য দ্রুত বেড়ীবাধঁ নির্মানের নির্দেশ দিয়েছি।