SHARE

মোঃ আরিফুজ্জামান আরিফ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।। হিমালয়ের চারদিক ধেয়ে আসছে শীত। দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দিন দিন শীত বেড়েই চলছে। শীতের ছোবলে থরথর করে কাঁপছে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ। শীত নিবারণে বিভিন্ন ফুটপাতে জমে ওঠছে শীতবস্ত্রের বাজার। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতেও গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব দোকানে স্বল্প দামে প্রায় সব ধরনের গরম কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। দামে কিছুটা সস্তা হওয়ায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। দোকানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকদের কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। দাম হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতার ভিড় বেশি। আগে এসব দোকানের ক্রেতা ছিলেন মূলত গ্রামের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। এখন অবস্থা সম্পর্না লোকেরাও এখানে আসেন কেনাকাটা করতে।
কথা হয় শহরের ফুটপাতের ভাসমান এক ব্যবসায়ী কালাম ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। বড়-ছোট ভেদে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে।
তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাই বেশি। রিকশাচালকসহ অসহায় শীতার্ত মানুষ কম দামে শীতবস্ত্র কিনছেন।
ভ্যানচালক আব্দুল জব্বার জানান, দুদিন একটু রোদের ঝিলিক দেখ দিলেও আবার ঠান্ডা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের চেয়ে এখন কুয়াশার পাশাপাশি হালকা বাতাস বেড়েছে। এতে আরো প্রচুর ঠান্ডা অনুভূতি হচ্ছে।
 আবার সন্ধ্যার আগে থেকেই শুরু হয় বাতাস। ঠাণ্ডায় ভ্যানের হ্যান্ডেল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে শীত নিবারণের জন্য ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে।
আবার কেউ কেউ বলেন এখানে গত বছরের তুলনায় এবার শীতের কাপড়ের দাম বেশি। গত বছর যে কাপড় দেড়শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, এবার সেই কাপড় বিক্রি হচ্ছে দুইশত থেকে আড়াইশ টাকায়। কিন্তু উপায় নেই, শীত নিবারণে নিরুপায় হয়ে বেশি দামে গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে।
অনেকেই বলেন পুরান কাপড় না এলে বিত্তশালীরা বিপদে না পড়লেও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পরতেন।
আরও উপচে পরা ভীর লক্ষ্য করা যায় শহরের জুতার দোকানগুলোতে। জুতা কিনতে আসা গৌতম চন্দ্র বলেন এই শীতে আমার মত অনেকেই এসেছেন সু-জুতা ও ক্যাচ কিনতে ।
 
 ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক জহুরুল ইসলাম বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি জেলা আমাদের ঠাকুরগাঁও। সেই কারনেই বাকী জেলাদের তুলোনায় ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা একটু বেশি। এই শীতে অসহায়, দরিদ্র মানুষ ও বৃদ্ধা যারা রয়েছে তাদের শীত বস্ত্রের প্রয়োজন হয়।
এবারে প্রধানমন্ত্রী আমাদের জেলায় ২১ হাজার শীত বস্ত্র পাঠিয়েছে। সেই সাথে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ১৩হাজার ১’শ ৭৭টি শীতবস্ত্র পেয়েছি। এর মধ্যে আমাদের ৫টি উপজেলায় প্রেরণ করেছি তাদের চাহিদা অনুযায়ী। ঠাকুরগাঁওয়ের কোন মানুষ শীতে কষ্ট পাবেনা বলে জানান তিনি। 
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেনর এসে শীতার্থদের মাঝে কয়েকস দুস্থ পরিবারের কাছে শীত বস্ত্র বিতরন করে গেছেন।
এদিকে  আবহাওয়া অফিস তথ্যে যানা যায়, আজকে ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হলো ১৫ডিগ্রী এবং নিম্ন ৯ডিগ্রী সেলসিয়াস । 
32 Views