SHARE

জাতীয় সংসদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিল পাস হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। পরে এটি পাস হয়।

বিলটি পাস হওয়ার ফলে মানুষ দেশেই মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করার সুযোগ পাবেন। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। এই আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এই চিকিৎসাসেবার অনুমতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। তবে সরকারি হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে অনুমতি লাগবে না।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণে বাণিজ্যিক ব্যবহার রোধের পাশাপাশি এর পরিধি বাড়াতে সংসদে একটি বিল উত্থাপিত হয়। সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল- ২০১৮’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে দুই মাসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তির চোখ ছাড়া অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে তিনি নিকটাত্মীয়কে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জা সংযোজন ও প্রতিস্থাপনে নিকটাত্মীয় হওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বিদ্যমান আইনে শুধু পুত্র-কন্যা, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী এবং রক্তের সম্পর্কে সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা- এই ১২ জন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ করতে পারেন। তবে প্রস্তাবিত আইনে নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী ও রক্ত সম্পর্কিত আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা-নানি, দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি, আপন চাচাতো-মামাতো-ফুপাতো-খালাতো ভাই-বোনরাও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান ও গ্রহণ করতে পারবেন। মৃত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও অন্যের শরীরে সংযোজন করা যাবে।’

বিলে ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে’ এর সংজ্ঞায় মানবদেহের কিডনি, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, অন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চোখ, চর্ম ও টিস্যুসহ মানবদেহে সংযোজনযোগ্য যেকোনো অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গকে বোঝানো হয়েছে।

বিলে আত্মীয়ের মিথ্যা তথ্য দেওয়াসহ আইনভঙ্গের অপরাধে সাজার মেয়াদ কমলেও বাড়ানো হয়েছে জরিমানা।

এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিকটাত্মীয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে বা মিথ্যা তথ্য দিতে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করলে বা ভয় দেখালে অনধিক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। আইনের অন্যান্য বিধান লঙ্ঘন করলে অথবা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

কোনো চিকিৎসক দণ্ডিত হলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের দেওয়া নিবন্ধন (চিকিৎসা সনদ) বাতিল হবে। এছাড়া কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীনে কোনো অপরাধ করলে অনুমতি বাতিল ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

23 Views