SHARE

বখতিয়ার ঈবনে জীবন,ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি ঃ নীলফামারীর ডোমারে মাত্র ১০ গজের মধ্যে একই নামে দুটি বিদ্যালয় স্থাপন করায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত।

জানা গেছে, ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী হাটের চামাড় পাড়া মোড় নামক এলাকায় মটুকপুর সপ্তর্ষী বিদ্যাপীঠ নামে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করে গত ২০১৫ইং সাল থেকে সুনামের সাথে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে। এর এক বছর পর ২০১৬ইং সালে বিদ্যালয়ের মাত্র ১০গজ দুরে মটুকপুর বারোগোলা দুর্গা ও কালি মন্দির মাঠে একই নামে আর একটি বিদ্যালয় স্থাপন করায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক বৃন্দ।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে,২০১৫ ইং সালে ওই এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী প্রয়াত রশিদুল ইসলাম শাহ্র জায়গায় মটুকপুর সপ্তর্ষী বিদ্যাপীঠ (কোড নং-৮১৮৫) নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করে পাঠদান করে আসছে।ওই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ষ্ট ও ৭ম শ্রেনীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০জন। এদিকে অপর একটি পক্ষ মাত্র ১০গজ দুরে মটুকপুর বারোগোলা দুর্গা ও কালি মন্দির মাঠে একই নামে অপর একটি বিদ্যালয় খুলে বসে। সেখানেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতাধিক। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে টানতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বানিয়ে উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে মটুকপুর সপ্তর্ষী বিদ্যাপীঠ (কোড নং-৮১৮৫) এর প্রধান শিক্ষক সাজ্জাদুল ইসলাম( শুভ) জানান,আমার মরহুম বাবা রশিদুল ইসলাম শাহ্ এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। আমি বিদ্যালয়ের কোড নম্বর পেয়েছি। সরকারীভাবে বই পাচ্ছি। আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক থাকাবস্থায় গত ০৯/০৫/২০১৬ইং তারিখে পারিবারিক কাজে ছুটি নেই। এসময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী শিক্ষক শিবলী সাদেক সাধন। ২০১৬ সালে বাবা মারা গেলে তারা আমার এবং আমার বাবার অবর্তমানে সুযোগ নিয়ে প্রতিহিংসা মূলক একই নামে বিদ্যালয়ের সামনে অপর একটি বিদ্যালয় খুলে বসে। মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তা মানছে না। এদিকে মটুকপুর সপ্তর্ষী বিদ্যাপীঠের অপর প্রধান শিক্ষক অভয় চন্দ্র রায় জানান, শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে শিক্ষা পেলে অভিভাবকরা আমার বিদ্যালয়ে আসবে। মন্দির মাঠে একই নামে অবৈধভাবে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি কোন কথা বলেননি। এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বসুনিয়া জানান, বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার। তিনি ভালো বলতে পারবেন। অপর উপদেষ্টা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরন্নবী জানান,আমরা বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা মানেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকেরিনা জানায়,একই নামে দুটি বিদ্যালয় চলতে পারে না।বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মনে আলোচনার ঝড় বইছে।

27 Views