রাজশাহী অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বছরে নিহত ২৯৩

25 Views
SHARE
রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী মহানগরসহ এর আশেপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বছরে ২৯৩ জন নিহত হয়েছে। গত ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩০৯ জন। প্রতিবছর রাজশাহী অঞ্চলেই শুধুমাত্র প্রাণ হারাচ্ছে তিন শতাধিকেরও বেশি মানুষ। কোন ক্রমেই যেন থামছেনা সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাণহানিকর ঘটনা।
 
কোথাও না কোথাও ঘটে যাচ্ছে বড় ধরণের সড়ক দূর্ঘটনা। যার কারণে অকুলে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যে সমাবেশ-র‌্যালীসহ অনেক কর্মসূচী পালন করছেন সচেতন নাগরিকরা। কিন্তু কোন কিছুতেই কমছেনা সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনা নিমিষেই কেড়ে নেই একটি পরিবারের স্বপ্ন। চালকদের অসচেতনার জন্যই সড়ক দুর্ঘটনার মত মারাত্মক ঘটনাগুলো ঘটছে। চালকদের সচেতনতাই একমাত্র কমাতে পারে দুর্ঘটনা। চালকদের সচেতনার পাশাপাশি পথচারীদের সচেতনতাও প্রয়োজন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। শুধু রাজশাহী মহানগর ও আশেপাশের জেলা এবং উপজেলার এলাকাগুলোতেই সড়ক দুর্ঘটনাতে পহেলা জানুয়ারী থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিহত হয়েছে ২৯৩ জন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ ২৯৩ জন মারা গেছে। তবে হিসেবের বাইরে আরো মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়নি এর সংখ্যাও অনেক।
 
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ২৯৩ জনের মধ্যে ১০০ জনই রাজশাহী মহানগরী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার মানুষ। যারা যানবহনে যাতায়াত করার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হওয়া মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ হলো বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চালক এবং বাকিগুলো বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবহনের যাত্রী এবং পথচারী।
 
 এরমধ্যে জানুয়ারী থেকে জুন মাস পর্যন্ত ১৭৬ জন। জুলাই মাসে ২১ জন, আগষ্ট মাসে ১৫ জন, সেপ্টেমবর মাসে ২৪ জন, অক্টোবর মাসে ১২ জন, নভেম্বর মাসে ২৫ জন ও ডিসেম্বর মাসে ২০ জন।
২০১৭ সালে কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। যার কারণে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও প্রাণ হারাতে হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, গত জুন মাসের শেষের দিকে ঘটে যাওয়া রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা। সেখানে দু’জন মারা যায়। তার কয়েক দিন আগে একজন অফিসার মারা যান। তার আগে গোদাগাড়ীতে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকজন মারা যান। ঈদের পরে মোহনপুরে এক ব্যবসায়ী মারা যায়। রাজশাহীর পবা উপজেলায় গত অক্টোবর মাসে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৩ জন নিহত হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ২৫ জন আহত হয়।
 
 
এ ছাড়া নগরী ও বাইরের এলাকায় প্রায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেক যাত্রী আহত হয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে নগরীর হড়গ্রাম এলাকায় শ্রমিকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডোবায় পড়ে ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়। আহত শ্রমিকদের অভিযোগ ছিল, বাস চালক বাস না চালিয়ে হেলপার চালাচ্ছিল। হেলপার বাস চালাতে চালাতে সিগারেট টানছিল। এ কারণেই ওই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে। অতিরিক্ত স্পীডের কারণেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস রাস্তার নিচে পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। তার কিছুদিন আগেই পুঠিয়া উপজেলায় কুষ্ঠিয়া থেকে রাজশাহীগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এতে নারী-পুরুষ যাত্রীসহ ২৫ জন আহত হয়।
 
 
এভাবেই দিনের পর দিন রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার মত মারাত্মক প্রাণ হানিকর ঘটনাগুলো ঘটেই চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে চলেছেন অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত বছর রাজশাহীতে আসেন। রাজশাহীতে এসে তিনি নিরাপদ সড়কের দাবিতে সকল শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে একটি র‌্যালী করেন। এভাবেই তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছুটাছুটি করছেন। তারপরও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
 
সড়ক দুর্ঘটনার কারণ সমূহের মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হল, ফিটনেসবিহীন গাড়ী, চালকদের অদক্ষতা, অন্যমনষ্ক হয়ে গাড়ী চালানো, গাড়ী চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলা বা সিগারেট টানা, নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ী চালানো, রাস্তার সংকীর্ণতা, পথচারীদের অন্যমনষ্ক হয়ে চলাসহ অন্যান্য।
সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে সচেতন মানুষের সাথে কথা হলে তারা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মূলত চালকদেরকেই দায়ী করেছেন।
 
 
অভিমত ব্যক্ত বলেন, চালকরা গাড়ী চালানোর সময় সিগারেট খায়, মোবাইলে কথা বলে এবং অসতর্ক হয়ে গাড়ী চালান। যার ফলে গাড়ী সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ ছাড়াও অদক্ষ চালকের কারণেও সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়েই চলেছে। পথচারীদের অন্যমনষ্কতার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয় বলে তারা আরো মন্তব্য করেন।