নতুন বছরে গণতন্ত্র ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ : ফখরুল

21 Views
SHARE

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফেরানোকে নতুন বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। আমরা মনে করি, ২০১৮ সাল হচ্ছে জনগণের বছর, গণতন্ত্রের বিজয়ের বছর এবং জনগণই সেটা প্রতিষ্ঠা করবে।’

একাদশ সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপি সরকারের সঙ্গে সংলাপ চায়, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় সংলাপ চেয়ে এসেছি। আমরা মনে করি যে, সংলাপ ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান হবে না। কারণ, সরকার যে অবস্থান নিয়ে আছে, সেই অবস্থান হচ্ছে তারা তাদের একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করতে চাইছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের সেই তথাকথিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে চায়। যা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। এ দেশের মানুষ মনে করে, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ছাড়া এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের সভাপতি রাজীব আহসান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ নেতা-কর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতে যান মির্জা ফখরুল।

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীমসহ ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনে সমর্থন
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শিক্ষকদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।’

৫ জানুয়ারিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকের পত্রিকায় এসেছে যে, একটা অপরিচিত নাম-গোত্রহীন ইসলামিক পার্টিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটা সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর থেকে প্রমাণিত হয়, এই সরকার আসলে গণতন্ত্রকে হত্যা করে চলেছে এবং ভবিষ্যতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবার সমস্ত উদ্যোগে তারা বাধা দেবে।’

নতুন বছরের প্রথম দিনে ঠাকুরগাঁও, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, নাটোরসহ বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ-শোভাযাত্রার কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানান বিএনপির মহাসচিব।