SHARE

ছনি চৌধুরী,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ অব্যাহত রয়েছে কুশিয়ারা নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন । প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকা থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কুশিয়ারা ডাইক এবং বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের কাছে কুশিয়ারা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালীদের ক্ষমতার দাপটে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে । অবৈধ বালু উত্তোলনে মেতে উঠেছে একদল অসাধু চক্র । এর ফলে যেকোন মুহুর্তে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট ও শেরপুর সেতু ধ্বসে পড়বে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় লোকজন । নদী ভাঙ্গন,অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আশু হস্তেক্ষেপ এর জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বরাবর অভিযোগ দায়ের করলেও অভিযোগের প্রেক্ষিতে জুড়ালো কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী। কয়েকমাস পূর্বে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসব অবৈধ বালু উত্তোলনকারী সংস্থা তালুকদার এন্টারপ্রাইজের বলগ্রেড, নৌকা আটক করে আর্থিক জরিমানা ও মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দিলে তারা আবারো সংঙ্ঘবদ্ধ ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন শুরু করে। কী কারণের প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না এমন প্রশ্ন নদীর তীরবর্তীতে বসবাসরত হাজার হাজার লোকজনের। কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধভাবে একাধিক খননযন্ত্রের সাহায্যে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে । এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টসহ ্ওই এলাকার পাহাড়পুর,পারকুল বনগাঁও ও ব্রাম্মনগ্রামের শেরপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধ্বসে পড়ার আশংকার মধ্যে রয়েছে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট এবং শেরপুর সেতু । দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার সদও উপজেলার তালুকদার এন্টারপ্রাইজের আশরাফুল ইসলাম ওরফে বালু আশরাফ বিবিয়ানা প্লান্ট পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীতে একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছে। এ বালু একই এলাকার পার্শ্ববর্তী অর্থনৈতিক জোন শ্রীহট্রতে সরবরাহ করছে। নদীর পানিতে একাধিক জাহাজে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে গভীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণের হাহাকারের চিত্র চোখে পড়ছে না প্রশাসনের । এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানাযায় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়াঁয় অবাধে তোলা হচ্ছে বালু। এইসব জনপ্রতিনিরাই ধ্বংসের দিকে এলাকাকে ঠেলে দিচ্ছে । জড়িতদের তালিকা থেকে বাধ পড়েননি ইউনিয়ন ভিত্তিক জনপ্রতিনিধিরাও স্থানীয় কয়েকজন চেয়ারম্যান ,হত্যা মামলার আসামীসহ একাধিক রাগব বোয়ালদের সংশ্লিষ্টতার কথা উঠে এসেছে স্থানীয়দের মুখে । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর বন্যা কবলিত এলাকা পূর্ব তাজপুর এর নিকট থেকে চলমান অবস্থায় ৪টি খননযন্ত্রের সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে এমন চিত্র ধারণ করার সময় স্থানীয় তাজপুর এলাকার আব্দুল আওয়াল বলেন, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের এলাকা মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে,আমাদের এলাকা রক্ষার স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেছি কিন্তু অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করছি । তিনটি জেলার ৩টি সংসদীয় আসনের সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে এই বালু উত্তোলন চলেছে দীর্ঘদিন ধরে । বালু উত্তোলনে প্রতিবাদ করায় কুশিয়ারার নদী এলাকার অর্ধশতাধীক লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামরা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে তালুকদার এন্টারপ্রাইজের প্রোঃ আশরাফুল ইসলাম ওরফে বালু আশরাফ হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা । বন্যা বাধ যে ভয়ানক আকার ধারণ করেছে তার জন্য প্রশাসনকে দায়ী কওে ভুক্তভোগী লোকজন বলেন যদি প্রশাসন এলাকা রক্ষার্থে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারতো তা না করে তারা নিরব রয়েছে এতে তো মানুষ বুঝে প্রশাসন কেন এমন রয়েছে । আইন আমাদের মতো অসহায় গরীবদের জন্য প্রভাবশালী সম্পদশালীদের জন্য নয় । এব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনীষ চাকমা জানান, আমি লিখিত ভাবে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাবর বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপরে চিঠি লিখেছি ।

এব্যাপারে কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী তালুকদার এন্টারপ্রাইজের প্রোঃ আশরাফুল ইসলাম ওরফে বালু আশরাফ জানান, আমি বৈধ ভাবে বালু তুলছি, আপনার তো নদী খনন এর অনুমতি আছে,বালু উত্তোলনের তো কোনো অনুমতি নেই ?? প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি তিনি ।

56 Views