নবজাতক বদলে দিল হাসপাতাল!

51 Views
SHARE

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলেশিশু জন্মের সাত দিন পর বদল করে কন্যাশিশু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক দম্পতি।

পাপিয়া ও মনু মিয়া নামের ওই দম্পতির বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাদেকল্পা গ্রামে। তাঁদের অভিযোগ, জন্মের পর নবজাতক অসুস্থ বলে তাকে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়। সাত দিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে নবজাতক ফেরত দেওয়ার সময় ছেলে শিশুর পরিবর্তে কন্যাশিশু দেওয়া হয়। গাইনি ওয়ার্ডের কর্মচারীরা ইচ্ছা করেই নবজাতক বদলে ফেলেছেন। এ কারণে তাঁরা ওই নবজাতককে গ্রহণ করেননি।

গতকাল দুপুর থেকেই ওই দম্পতি তাঁদের ছেলেশিশুকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দম্পতির অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে গতকাল রাতেই ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় ওই দম্পতি ও তাঁদের স্বজনের সঙ্গে। তাদের দাবি, গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে পাপিয়া ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পরই নবজাতক অসুস্থ বলে মাকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে নবজাতককে নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ওই ওয়ার্ডের নিময় অনুযায়ী, নবজাতককে চিকিৎসার সময় কোনো অভিভাবককে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয় না। নবজাতকের মা-বাবা আর লিঙ্গ উল্লেখ করে একটি টোকেন দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ওয়ার্ড কর্তৃপক্ষ মা-বাবাকে ডেকে নেয়।

পাপিয়া ও মনু মিয়ার অভিযোগ, নবজাতকের জন্মের পর তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে তাদের ছেলেসন্তান হয়েছে। গতকাল দুপুরে নবজাতক সুস্থ বলে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। ওই সময় নবজাতককে দেখে পাপিয়ার সন্দেহ হয়। তিনি যাচাই করে দেখেন যে নবজাতককে দেওয়া হচ্ছে সেটি কন্যাশিশু। এ সময় তাঁরা তাঁদের ছেলেশিশু ফেরত চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় নেয়। রাত ১০টার পরও ছেলেশিশু ফেরত না দেওয়ায় পাপিয়া ও মনু বিষয়টি স্বজনদের জানান।

আজ বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে গিয়ে ১০ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া নবজাতকের তালিকা দেখতে চাইলে বলা হয়, ওই দিনের তথ্য উপপরিচালক লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদারের কক্ষে নেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার বলেন, ‘কোথাও কোনো ভুল হতে পারে। আবার হাসপাতালের কেউ নবজাতক বদলও করতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। যদি এ ঘটনায় কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর শাস্তি হবে।’