SHARE

মিজানুর রহমান সোহেল নবীগঞ্জ থেকে ॥ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের ডেবনা ও হাতীমারা নদীর মধ্যে কোনা’বন নামক স্থানে সরকারী জায়গার উপর বিল্ডিং ও ইলেকট্রনিক্স ইটভাটা নির্মান করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়ার পর ও এর কোন প্রদক্ষেপ না নেয়ায় অভিযোগকারীরা রয়েছেন চরম হতাশায়। এ সবের পর ও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরকারী জায়গায় বিল্ডিং ও বিভিন্ন কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে অভিযোগকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় ইটভাটা নির্মানে ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম, পরবিশে আইন বা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন যে কোনো কাজে আসছে না। জানাযায় লন্ডন প্রাবাসী বুলবুল আমীন ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুহুল আমীন দীর্ঘ দিন ধরে উলুকান্দি মৌজা জেএল নং ১২৫এর অধীনে থাকা সরকারী ১ নং খতিয়ানের খাস ভুমি দাগ নং ১,২,৩,ও ৪ দাগের প্রায় ৫ একর ভুমি দীর্ঘ দিন ধরে জবর দখল করে ব্রিক ফিল্ড,ও বিল্ডিং নির্মান করে আসছে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত ভিটে বাড়িহীন ভুমিহীন লোকেরা ঐ ভুমি পাবার কথা। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে কথা বলার সাহস করেনি। এবং বুলবুল আমীন ও সুহুল আমীনের সাথে রয়েছে বিশাল বাহিনী। নদীর সীমানা সরকারী জায়গার উপর নির্ধারণকারী পিলার থেকে আরও ভেতরে ইট-সুরকি ও বালু দিয়ে নদী ভরাট করে ইটভাটা বানিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় এই ইটভাটার মালিকের বিরূদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। কোনো আইনেই ইটভাটা নির্মাণের জন্য নদী ভরাটের অধিকার নেই। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ৮(১) ধারা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির ওপর ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬(ঙ) ধারায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে জলাশয় ভরাট। কিন্তু বাস্তবে এখানে এসব কোন আইনকে মানা হচ্ছে না। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে জলাশয় ভরাট করলে দুই বছরের কারাদন্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে যেখানে কারাদন্ডের ও জরিমানার বিধান রয়েছে, সেখানে দিনের পর দিন এই ইটভাটা চলছে কীভাবে? অভিযোগ আছে প্রশাসনের উর্দ্ধত্তন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই এ সব অপকর্ম করছে ওই প্রভাবশালী চক্র। এদিকে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আউশকান্দি গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার পুত্র মোঃ আব্দুল মতলিব ও তার লোকদের স্বত্ব ভুমি আউশকান্দি মৌজার অধীনের ১ নং খতিয়ানের ৭৭১ দাগের ভুমিতে ভুমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন। আর ওই জায়গাসহ আরো অন্যান্য জায়গাতে বহুদিন ধরে কু-নজর পড়ে একই উপজেলার বেতাপুর গ্রামের মৃত হাজী মনির উদ্দিনের পুত্র লন্ডন প্রবাসি বুলবুল আমীন ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুহুল আমীনের। ওই চক্র আব্দুল মতলিব গংদের স্বত্ব ভুমি দখল করতে উঠে পড়ে লেগে রয়েছে।এমনকি প্রভাবশালীরা আব্দুল মতলিব মিয়ার রোপনকৃত ফসলি জমির ধান কেটে নিয়েছে এবং উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছে বলে জানিয়েছেন এলাকার নিরীহ লোকজন। সুত্রে আরো জানা গেছে তাদের বিরুদ্ধে বিগত ৬ মার্চ ২০০৭ইংরেজি সনে আব্দুল মবলিব ও জুতি মিয়াসহ আরো কয়েকজন মিলে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। ইদানিং লন্ডন প্রবাসী বুলবুল আমীন ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুহুল আমীন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে সরকারের ভুমি সংলগ্ন মালিকানা ভুমি আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের ভুমি কিভাবে তাদের কবলে নিতে পারে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ওই প্রভাবাশালীরা একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র তৈরি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। আব্দুল মতলিব মিয়া গংদের অহরহ হুমকি ধামকি সহ নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে। এ ব্যাপারে আব্দুল মতলিবগংরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সচিব জনপ্রসাশন মন্ত্রনালয়, ভুমিমন্ত্রী, চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) র‌্যাব-৯, জেলা প্রশাসক হবিগঞ্জ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) উপ-পরিচালক জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নবীগঞ্জ থানা, সহকারি কমিশনার (ভুমি) নবীগঞ্জসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচা দুনীতি দমন কমিশন থেকে অভিযোগকারী আব্দুল মতলিবকে অভিযোগ প্রাপ্তি স্বীকার ডাকযোগে ২৫০-২০১৭/১৯৭৭১ নং স্বারকে গত ২২ শে জুন প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে দখলকারী হাজী সুহুল আমীন বলেন,সরকারী কোন জায়গা দখল করেনি। সরকারে জায়গা হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় গোপলার বাজার তহসিল অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আশুতোষ বনিক বলেন আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোন আদেশ কপি আসে নাই। এর জন্য কোন কিছু করার নেই। এব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার ওলিউল্লাহ বলেন,আমাদের কাছে একটি অভিযোগ রয়েছে অচিরেই সরজমিনে গিয়ে খতিয়ে দেখবো। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সরোয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

32 Views