রূপগঞ্জে নব্য জেএমবির দুই সদস্য আটক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আটক হয়েছে নব্য জেএমবির (তামিম-সারোয়ার গ্রুপ) দুই সদস্য। র‌্যাব-১১’র একটি আভিযানিক দল বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির ওই দুই জঙ্গি সদস্যকে আটক করে। আটককৃতদের কাছ থেকে জঙ্গিবাদী কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব এ তথ্য জানায়।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাকিল আহমেদ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চলতি বছরেই এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তারা জঙ্গি দমনে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছেন। তাদের অভিযানে নারায়ণগঞ্জসহ আশেপাশের এলাকা থেকে নব্য জেএমবির ৪৭ জঙ্গি আটক হয়। তাদের দেয়া তথ্যমতে, তারাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলার বন্দর থানার একটি মামলার পলাতক আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন (৩৪) এবং মোঃ ইসমাইল হোসেন(২৯)কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র‌্যাব আরো জানায়, আটক জঙ্গি মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন ১৯৯৬ সালে নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে হাফেজিয়া পাশ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চাকুরী করে। গত বছরের মে মাস থেকে সে রূপগঞ্জে একটি প্লাইউড ফ্যাক্টরিতে কাজ করছিল। ২০১৩ সালে সে জনৈক তাসনিমের সাথে উগ্রবাদী অডিও আদান প্রদানের মাধ্যমে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ধীরে ধীরে হানাফি থেকে সে সালাফি মতাদর্শে প্রবেশ করে। পরে তার সাথে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য আনোয়ার হোসেন, আবু ইউশা মোহাম্মদ আব্দুল-াহ, মাসুদ আলম রানা, নাঈম এবং তারেক এর পরিচয় হয়। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় সংগঠনে তার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তার বাসায় জেএমবির বিভিন্ন কার্যক্রম ও গোপন বৈঠক চলতে থাকে। সে সংগঠনে পর্যাপ্ত অর্থ সহায়তাও প্রদান করত। সে সময় জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গী সারোয়ার জাহান, ডাঃ নজরুল, তাসলিম ও নাঈম একাধিকবার গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছে। আটক অপর জঙ্গি মোঃ ইসমাইল হোসেন ২০০৫ সালে দারুল ফালাহ ছালেহিয়া সাহেব আলী আলিয়া মাদ্রাসা, তুরাগ, ঢাকা থেকে ৮ম শ্রেণী পাশ করে। সে ২০১২ সালে ঢাকায় একটি কোম্পানিতে ও পরে তার ভাইয়ের স্টেশনারী দোকানে কাজ শুরু করে। ২০১৪ সালে জেএমবি সদস্য এবং গ্রেপ্তারকৃত মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন এর মাধ্যমে সে সংগঠনে প্রবেশ করে। সে মুলতঃ আব্দুল¬াহপুর এলাকায় দাওয়াতী কাজ করত। ধীরে ধীরে সংগঠনের অনেক সদস্যের সান্নিধ্যে এসে তার কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উভয় জঙ্গি এসব কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।