কালিফোর্নিয়ায় দাবানলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

ক্যালিফোর্নিয়ায় সৃষ্ট দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে। তবে ওই অঞ্চলে এখনও কয়েক শত মানুষ নিখোঁজ আছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাজ্যের ওয়াইন অঞ্চলের সৃষ্ট দাবানলের কারণে দেড় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। খবর-দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সোনোমা কাউন্টির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩৮০ জন। যদিও এর আগে কাউন্টি শেরিফ রবার্ট জিওরদানো জানিয়েছিলেন, ৬৭০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে অবস্থার উন্নতি ও উদ্ধার তৎপড়তায় অনেকের সন্ধান পাওয়ায় এ সংখ্যা কমে এসেছে। তিনি আশা প্রকাশ করছেন, আরও অনেককেই উদ্ধার করা যাবে।

সোনোমা কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সেখানে মৃতের সংখ্যা ১১ জন। লস এঞ্জেলস টাইমস সূত্রে জানা গেছে, ম্যানডোকিনো কাউন্টিতে মারা গেছেন ছয়জন, দুইজন ইউবা কাউন্টিতে এবং দুইজন নাপা কাউন্টিতে। নাপা কাউন্টিতে মারা যাওয়া দুইজন হচ্ছেন শতবর্ষী চার্লস রিপে এবং ৯৮ বছর বয়সী তার স্ত্রী সারাহ।

ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে এই অঞ্চলের প্রায় এক লাখ পনের একর জায়গা পুড়ে গেছে। রাজ্যের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কেন পিমলোট ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি’কে জানিয়েছেন, কঠিন হলেও দাবানলের ভেতরও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে তার আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এ ঘটনায় ক্যালিফের্নিয়ার গভর্নর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি পুড়ে যাচ্ছে। আরও অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মুখে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যেতে হবে। ওইসব অঞ্চলের হাজারো মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে হবে।

দাবানলের ফলে সান্তা রোসার হিলটন হোটেলসহ অসংখ্য স্থাপনা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। রাজ্যের প্রায় ১ লাখ বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তীব্র বাতাস, কম আর্দ্রতা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এলাকা গুলোতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।