কার র‌্যাঙ্কিং কত ভাবার সময় নেই

১৯৮৫ সালে ঢাকায় বসেছিল এশিয়া কাপ হকির দ্বিতীয় আসর। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ঘাসের মাঠে ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের সুবাদে বিশ্ব একাদশে খেলার সুযোগ হয়েছিল জুম্মান লুসাইয়ের। ৩২ বছর পর আরেকটি এশিয়া কাপের আসর শুরু হচ্ছে আজ। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের কৃত্রিম টার্ফে ফ্লাড লাইটের আলোতে জিমি-চয়নদের আজকের প্রতিপক্ষ তিন বারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় শুরু হবে এই ম্যাচ। এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে ভারত। দুটি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচার করবে স্টার স্পোর্টস।
আজ শুরু হওয়া এশিয়া কাপে অংশ নেবে যে আটটি দেশ তার মধ্যে বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে। সেরা ছয়ে থাকাটা হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। যদিও সেটাও অনেক কঠিন। বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে বাংলাদেশ যে ঘরের মাঠে সেরা ছয়ে থেকে পরের এশিয়া কাপটা সরাসরি খেলতে চাইবে এটা কেউ না বললেও চলে। কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে আশা জাগিয়েও বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গের গল্পটা পুরনো। বাংলাদেশ অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি তাই আশার বেলুন না ফুলিয়ে এবার সতর্ক থাকতে চান। পাকিস্তান ম্যাচের আগে এত কিছু অবশ্য ভাবতে চান না বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মাহবুব হারুন। পজিশন নিয়েও এই মুহূর্তে ভাবনা নেই তার। ‘গত তিনমাস ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করেছে। ঘাম ঝড়িয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। চীনে ছয়টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। ঢাকার মাঠেও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে জিমিরা। আমাদের অনুশীলন মোটামুটি সম্পন্ন। মাঠে পজিটিভ খেলার চেষ্টা করবে সবাই। জেতার জন্যই মাঠে নামবে ছেলেরা’-বলেন তিনি। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে সমীহ করে বাংলাদেশ কোচ বলেন, পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড় ঢাকায় খেলেছে। তারা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানে। তাতে অবশ্য সমস্যা নেই। আমাদেরও জানা রয়েছে তাদের সম্পর্কে। আমি বলেছি, তোমরা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সটা দেবে। এতে আমার মনে হয় ফলাফলটা খারাপ হবে না। দলের অন্যতম সিনিয়র খেলোয়াড় পুস্কর ক্ষিসা মিমো বলেন, ৩২ বছর পর নিজেদের মাঠে এশিয়া কাপ। তাই নিজেদের সেরাটা দিয়েই আমরা খেলতে চাই। সবদল একই মানের। কেবল আমরা খেলতে আসা দেশগুলোর শেষে। এই মুহূর্তে র‌্যাঙ্কিং নিয়ে ভাবতে চান না সাবেক অধিনায়ক ও পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিস্ট মামুনুর রহমান চয়ন। ‘কার র‌্যাঙ্কিং কত, তা নিয়ে ভাবার সময় নেই। জেতার জন্যই মাঠে নামতে হবে। পাকিস্তানও জেতার জন্য নামবে। পুরো ৬০ মিনিট পাব আমরা। এই সময়ের মধ্যে গোল আদায় করে নিতে হবে আমাদের। পেনাল্টি কর্নার নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে চয়ন বলেন, আমরা সেরা খেলাটাই এখানে খেলতে চাই। আশরাফুল, খোরশেদ এবং আমি রয়েছি পেনাল্টি কর্নার থেকে হিট করার জন্য। কারণ আমাদের পিসি পজিশন শক্তিশালী। অন্তত তিনটি পিসি থেকে একটি গোল যেন আমরা আদায় করতে পারি, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৩২ বছর আগের সেই এশিয়া কাপের সাক্ষাতে ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ এসএ গেমসের সাক্ষাতেও দলটির বিপক্ষে জিমি-চয়নদের হার ৩-০ গোলের। এশিয়া কাপের পাঁচ সাক্ষাতে কোনো গোল হজম না করে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে টানা তিনবার সাউথ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী এই দলটি। যে দলটির বিপক্ষে এত সাফল্য সেই বাংলাদেশকেও সমীহ করছে পাকিস্তান। শুধু স্বাগতিক বলেই না দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণেই বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানছেন দলটির কোচ ফরহাত খান। তার মতে নিজেদের দিনে যারা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবে তারাই ম্যাচ জিতবে। টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি, স্বাগতিক সুবিধা সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশও আমাদের কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।
পুল ‘বি’তে আগামী শুক্রবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জাপান। দু’দিন পর ভারতের সঙ্গে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে স্বাগতিকরা।