‘সে কোথায় ফিল্ডিং করবে সিদ্ধান্তটা তার নিজের’

দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজে শোচনীয় হার বাংলাদেশ দলের। বাজে বোলিং ও ব্যাটিংয়ে শেষ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে দল। কেন এমন বাজে হার! প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে হয়তো আরো পরে। কিন্তু দলের ব্যর্থতা ছাপিয়ে এখন আলোচনায় টেস্ট অধিনায়কের নেতৃত্ব ও তার করা মন্তব্য। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে বলার অপেক্ষা রাখে না মুশফিকের অধিনায়কত্ব এখন হুমকির মুখে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ করে দেশে ফিরে এলে হয়তো জানা যাবে সেই সিদ্ধান্তের কথা। তবে তার আগে ম্যাচ চলাকালে কোচ ও টস নিয়ে নিয়ে মুশফিকের বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছে বিসিবি। বোর্ড পরিচালকরা এ নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে মন্তব্যও করেছেন। গতকাল খোদ বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন মুশফিকের এমন মন্তব্যে নাখোশ তারা। শুধু তাই নয়, টস নিয়ে তার এমন বক্তব্যে দেশের ক্রিকেটের ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘ও (মুশফিক) যেসব মন্তব্য করছে, সেটা দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। কোনো অধিনায়ক টস নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের কথা বলতে পারে না। এটা দলের জন্য ভালো হচ্ছে না।’
ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে মুশফিক রীতিমতো নিজের হতাশার ঝুলি খুলে বসেন। টস জিতে কেন এই টেস্টেও ফিল্ডিং নিয়েছেন মুশফিক? এ প্রশ্নের অধিনায়কের উত্তর ছিল, ‘আমার তো মনে হচ্ছে টসে জেতাই ভুল হয়ে গেছে ভাই!’ অধিনায়ক হয়ে প্রথম এবং দ্বিতীয় সেশনের অনেকটা সময় মুশফিক ফিল্ডিং করেছেন বাউন্ডারিতে। কেন তিনি বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করেছেন, সেটির জবাবে বলেছেন, ‘কোচরা চেয়েছেন বাইরে ফিল্ডিং করি। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা বলবে, সেটাই তো করতে হবে।’ টস না হয় দলের সিদ্ধান্তে মুশফিক নিয়েছেন। কিন্তু তাকে ফিল্ডিং করতে কোনো জোর করা হয়নি বলেই জানিয়েছেন নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘সে কোথায় ফিল্ডিং করবে, সে সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের ছিল না। সিদ্ধান্তটি ছিল তার ব্যক্তিগত। ওকে কেউ চাপিয়ে দেয়নি।’
মুশফিকের মন্তব্যে বিসিবির নাখোশ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সময়ও তার কিপিং নিয়ে করা প্রশ্নে খুব বাজেভাবে বোর্ডের ঘাড়ে দায় চাপিয়েছিলেন তিনি। যে কারণে তিনি অধিনায়কত্ব হারাতে পারেন এমন গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ শেষ না হতেই সেই গুঞ্জন এখন ্‌আরো প্রবল। এমনকি ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক নিজেই বলেছেন তার নেতৃত্ব থাকবে কি থাকবে না সেটি সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি। গতকাল তেজগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে নাজমুল হাসানকে মুশফিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তাকে সরিয়ে দেয়ার বা তার নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।’ শুধু মুশফিকের বক্তব্য নয়, দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ ক্ষিপ্ত বিসিবি সভাপতি। দলের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে তিনি প্রশ্নও তোলেন।  তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হয়নি তারা জেতার জন্য মাঠে নেমেছে।’ দলের শারীরিক ভাষাতেই ছিল না লড়াই করার কোনো লক্ষণ এমন কথা বলেছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার ও বোর্ড পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজনও। বলার যুক্তিও আছে। প্রথম ম্যাচে ৩৩৩ রানে হার- সেখানে আছে ৯০ রানে অল আউট হওয়ার লজ্জা। আর দ্বিতীয় টেস্টে প্রোটিয়াদের ৫৭৩ রানের জবাবে দুই ইনিংসেও তা তুলতে পারেনি দল।
কোচের সঙ্গে মুশফিকের সম্পর্কের অবনতি নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। কেন হঠাৎ মুশফিক এমন বললেন? কোচ যদি স্বেচ্ছাচারিতা করে থাকে সেটি কেন মুশফিক বোর্ডকে জানাননি। আসলে দলের মধ্যে কী সমস্যা চলছে? এ বিষয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘হতে পারে কোচের সঙ্গে সমস্যা, হতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কোনো সমস্যা। তবে কী হয়েছে তা দেশে আসলে সমাধান হবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের আগে থেকেই দলের মধ্যে চলছিল নানা সমস্যা। বিশেষ করে সিনিয়র দু’জন ক্রিকেটারের সঙ্গে কোচের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। মাশরাফি বিন মুর্তজা টি- টোয়েন্টির নেতৃত্ব হারানোর পর সেই সময় আঙ্গুল উঠেছিল প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দিকে। এবার মুশফিকের অভিযোগের আঙ্গুলও অনেকটা প্রধান কোচের দিকেই। তাহলে এ সব সমস্যার কারণ কি হাথুরুসিংহের স্বেচ্ছাচারিতা!