শেষের পরীক্ষায় মেসি-আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে আর কী খেলতে দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে? ভক্তরা কালই পেয়ে যাবেন উত্তরটা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাল ভোরে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরের রাজধানী কোয়েটায় খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায়। বাছাইপর্বে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের তালিকায় আর্জেন্টিনা রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ইকুয়েডরের কাছে হার মানে পত্রপাঠ বিদায়। তবে জয় পেলে কী হবে? কোয়েটায় জয় পেলে হয়তো চূড়ান্তপর্ব নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টাইনদের। কারণ শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হচ্ছে  তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানের দল কলম্বিয়া-পেরু। বাছাইপর্বের শেষ দিনে একই সময়ে পেরুর রাজধানী লিমায় মুখোমুখি হচ্ছে দু’দল। তালিকায় আর্জেন্টিনার চেয়ে ১ পয়েন্টে এগিয়ে কলম্বিয়া। আর আর্জেন্টিনার সমান ২৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় পেরু এগিয়ে গোল ব্যবধানে। এতে ইকয়েডরের বিপক্ষে জয় পেলে অন্তত প্লে-অফ নিশ্চিত হবে মেসিদের। তালিকার পঞ্চম দল প্লে-অফ খেলবে ওশেনিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের
বিপক্ষে। তবে নিজেদের শেষে অন্য ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে সরাসরি টিকিটও মিলতে পারে আর্জেন্টিনার। এক্ষেত্রে আর্জেন্টাইনদের চোখ থাকবে ব্রাজিল-চিলি ম্যাচের দিকেও। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে একমাত্র গোলে হার নিয়ে শিরোপার স্বপ্ন ভাঙে আর্জেন্টাইনদের। আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির নজরটা স্বাভাবিক কারণেই ২০১৮ বিশ্বকাপের দিকে। কিন্তু বাছাইপর্বে মেসিদের  লাগাতার মলিন নৈপুণ্যের কারণে ৪৮ বছরে প্রথমবার আর্জেন্টিনাহীন বিশ্বকাপের আশঙ্কায় ভক্তরা। শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে পেরুর সঙ্গে গোলশূন্য ড্রতে পয়েন্ট খোয়ায় নতুন কোচ হোর্হে সাম্পাওলির আর্জেন্টিনা। নতুন কোচের অধীনে টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট খোয়ালো আর্জেন্টাইনরা। আর শেষ পাঁচ ম্যাচে বল পায়ে খেলায় কোনো গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইনরা। আর আজ আর্জেন্টিনার কোচ দলে পাচ্ছেন না ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোকে। গত সপ্তাহে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে এক কনসার্ট দেখে বিমানবন্দরে ফেরার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় পাঁজরের হার ভেঙে যায় আগুয়েরোর।

আর্জেন্টিনা হারলে কী হবে?
ইকুয়েডরের সঙ্গে ড্র করলেও সুযোগ থাকবে আর্জেন্টিনার। তবে এতে জটিল এক সমীকরণের মুখে পড়বে তারা। এক্ষেত্রে তাদের কলম্বিয়া-পেরুর ম্যাচে কমপক্ষে ২ গোলের ব্যবধানে হারজিত দেখা চাই। হোম ম্যাচে চিলির বিপক্ষে কমপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে চাই ব্রাজিলের জয়। এবং নিজ মাঠে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে জয়হীন থাকা চাই প্যারাগুয়ের। যদি পেরু-কলম্বিয়া ম্যাচ ড্রতে শেষ হয় অথবা স্বাগতিকরা এক গোলে জয় পায় তাহলে আর্জেন্টিনা বিদায় নেবে, যদি না চিলির বিপক্ষে পরিষ্কার দুই গোলের ব্যবধানে জয় দেখে ব্রাজিল। ইকুয়েডরের কাছে শেষ ম্যাচে হার নিয়েও রাশিয়ার টিকিট পেতে পারে আর্জেন্টিনা। এক্ষেত্রে তালিকার পঞ্চম স্থানের চেয়ে বেশি কিছু অর্জন সম্ভব নয় তাদের। আজেন্টিনা হারলে ব্রাজিল-চিলি ম্যাচের ফলে আসবে-যাবে না কিছু। কলম্বিয়ার কাছে পেরুর বড় ব্যবধানে হার অপর ম্যাচে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে প্যারাগুয়ে জয়হীন রইলে তালিকার পঞ্চম স্থান নিয়ে প্লে-অফের সুযোগ  পাবে আর্জেন্টিনা।  আর্জেন্টিনা একাদশে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েনকে সুযোগ দেননি নতুন কোচ সাম্পাওলি। আর শেষ ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি ইনফর্ম স্ট্রাইকার পাওলো দিবালা ও মাউরো ইকার্দি। আর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০১২৭ ফুট উঁচুতে কোয়েটার জাতীয় স্টেডিয়ামে গত ১৬ বছরে জয়ের স্মৃতি নেই আর্জেন্টিনার। এখানে তারা সর্বশেষ জয় দেখে ২০০১ সালে।  পরে চার সাক্ষাতে দুই হার ও দুই ড্র নিয়ে খেলা শেষ করে সফরকারী
আর্জেন্টিনা।