‘রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের প্রস্তাব একটি কৌশল’

সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে যে প্রস্তাব মিয়ানমার দিয়েছে সেটা তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি কৌশল। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে কালক্ষেপণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট : বাংলাদেশ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ ও পর্যালোচনা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সরকারের মধ্য বিভাজন হচ্ছে। সু চি এক কথা বলেন, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রচার আর এক কথা বলে। এ সংকট মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে। এখন এটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা নেই। মিয়ানমার সুপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীন করে যাচ্ছে। ১৯৮২ সালে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার নিজেরা যাচাই-বাছাই করে প্রত্যাবাসনের কথা বলছে। এ ক্ষেত্রে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসনের যে নীতি নেওয়া হয়েছিল সেটাকে অনুসরণ করতে চাইছে। বাংলাদেশ সরকার এইবারের পরিস্থিতির মাত্রা ও ভিন্নতার বিষয়ে মিয়ানমারকে জানিয়েছে এবং প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে একটা খসড়া প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিতভাবে মিয়ানমারের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে হবে। যাতে দেশটির সরকার রাখাইনে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও জীবন-যাপনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। সামরিক বাহিনী নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়।