যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সঙ্কট উত্তরণে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী স্পষ্ট করেই বলেছেন, এ ইস্যুতে বাংলাদেশ মোটেও নতজানু নয়। তার মতে, যুদ্ধ কোন সমস্যা হতে পারে না। দুনিয়াতে কোন সমস্যার সমাধান যুদ্ধ করে হয়নি। রোহিঙ্গা সঙ্কটেও যুদ্ধ নয়, শান্তিপূর্ণ উপায়ে কূটনৈতিকভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়েই এর সমাধান চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখ মিয়ানমার নাগরিককে (রোহিঙ্গা) তাদের নিজ ভূমে ফেরাতে দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর পর গতকাল প্রথম কূটনৈতিক ব্রিফ শেষে মন্ত্রী এভাবেই ঢাকার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো এবং মিয়ানমারসহ আসিয়ান জোটের সদস্য রাষ্ট্রসহ ২৮ দেশের কূটনীতিকদের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আয়োজিত কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে এবারই প্রথম মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার গতকাল বিকালের ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে একাধিক প্রশ্নের জবাবে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা পরামর্শ দেবেন। আমার নেব। আমাদের সবারই উচিত ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করা। আমরা দেশের জন্যই চিন্তা করছি।’ ইস্যুতে সরকারের অবস্থানের সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু লুকাতে চাই না। কেন লুকাব?’ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়েই কাজ করছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, বৈশ্বিক উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার দরজাও খুলে রেখেছে। মিয়ানমারের মন্ত্রী এরই মধ্যে ঢাকা সফর করেছেন। তবে তার সফরের বিষয়ে মিয়ানমার স্টেট কাউন্সেললের দপ্তর যে বিবৃতি দিয়েছে এবং সেখানে ১৯৯২ সালের সমঝোতা মতেই তাদের ফেরানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে তার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে কূটনীতিকদের মন্ত্রী এ নিয়ে খোলাসা করেই বলেছেন, ৯২ আর আজকের প্রেক্ষাপট এক নয়। সেই সময়ে যে সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের ফেরানো হয়েছিল বর্তমান বাস্তবতায় তা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।