ব্লু হোয়েল গেইম : বিটিআরসিকে তদন্তের নির্দেশ

‘ব্লু হোয়েল গেইম’এর কারণে বাংলাদেশে কেউ আত্মহত্যা করেছে কি না, তার তদন্ত করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মেয়ের আত্মহত্যার জন্য ঢাকার এক স্কুলছাত্রীর বাবা এই ইন্টারনেট গেইমকে দায়ী করার সংবাদ গণমাধ্যমে দেখে বিটিআরসিকে এই এই নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার (৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বিষয়টি আমার নজরেও এসেছে। আমি আজ দুপুরে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে (শাহজাহান মাহমুদ) নির্দেশনা দিয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’

ওই ছাত্রী আলোচিত এই গেইম খেলে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশে থেকে এই গেইম খেলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে বিটিআরসিকে।

‘ব্লু হোয়েল’ বা ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’একটি অনলাইন গেইম, যা অংশগ্রহণকারীকে মৃত্যুর পথে নিয়ে যায়। নীল তিমিরা মারা যাওয়ার আগে জল ছেড়ে ডাঙায় ওঠে যেন আত্মহত্যার জন্যই- সেই ধারণা থেকে এই গেইমের নাম হয়েছে ‘ব্লু হোয়েল’।

এই গেইমে খেলোয়াড়দের সামনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতে দেওয়া হয়, শুরুতে হালকা কিছু কাজ দেওয়া হলেও ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সব কাজ দেওয়া হয়। সব শেষে চূড়ান্ত কাজ হিসেবে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বলা হয়।

২০১৩ সালে রাশিয়ায় ‘এফ৫৭’নামে যাত্রা শুরু করে গেইমটি। নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক সাবেক মনোবিদ্যা শিক্ষার্থী এই গেইম তৈরি করেন।

তার দাবি, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে সমাজে যাদের কোনো মূল্য নেই বলে তিনি বিবেচনা করেন তাদেরকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করার মাধ্যমে সমাজকে ‘পরিষ্কার’ করা।

এই গেইম খেলে ১৬ কিশোরীর আত্মহত্যার পর বুদেইকিনকে রাশিয়ায় আটক করা হয়।

রাশিয়ায় যাত্রা শুরু করলেও পরে তার উপর ভিত্তি করে একই ধরনের অ্যাপক তৈরি হয় এবং তা অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। ভারতেও এই গেইমটি খেলে কয়েকজনের আত্মহত্যার খবর আসার পর দেশটির সরকার ‘ব্লু হোয়েল’র মতো বিপজ্জনক অনলাইন গেইমের লিঙ্ক বন্ধ করে দেয়।