‘প্রধান বিচারপতিকে চাপ প্রয়োগের কথা ভিত্তিহীন’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি নিয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত। এ কারণে তিনি এক মাসের ছুটিতে গেছেন। তার ছুটি নিয়ে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে গণতন্ত্র ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিল, তারাই তার ছুটিতে যাওয়ার বিষয় নিয়ে চিৎকার করছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি আমাদের জানিয়েছেন, আমরা প্রধান বিচারপতিকে বিশ্বাস করি। তিনি বলেছেন, তিনি অসুস্থ, এর ওপর আমি কোনো প্রশ্ন করতে রাজি না। যেহেতু সুপ্রিম কোর্টটা চলতে হবে এবং সংবিধানে যে প্রভিশন আছে, সেই প্রভিশন অনুযায়ী একজন অ্যাকটিং চিফ জাস্টিস থাকবেন। চাপের মুখে প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেছেন- ওনাদের এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। এটার কোনো প্রমাণ নেই।’

‘অনর্থক কথাবার্তার জবাব আমাদের দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনারা বলছিলেন ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করবেন, ষোড়শ সংশোধনীর সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক নেই। আপনারা তো রায়ের সমালোচনা করেছেন, এখনো করছেন। তাই বলা হচ্ছে, চাপ প্রয়োগ করে, কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়নি’ যোগ করেন মন্ত্রী।

বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, ‘ওনারা বলে দিলেন, এটা নজিরবিহীন। মানুষ অসুস্থও হতে পারবে না? এর আগে যেহেতু কেউ হয়নি, এখনো হতে পারবে না? এ রকম কথা যদি ওনারা বলে থাকেন, ওনাদের অবাস্তব কথার জবাব দেওয়ার জন্য আমি এখানে বসিনি।’

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি তার পত্রে লিখেছেন তিনি ক্যান্সারসহ নানারোগে আক্রান্ত। সেগুলো সম্পূর্ণ সারেনি। উনি বলেছেন, ওনার বিশ্রামের প্রয়োজন, সেজন্য উনি এক মাসের ছুটি নিয়েছেন। এখন নিয়মটা কী, বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ার পর মাননীয় প্রধান বিচারপতি নিজের ছুটি নিজে নেন। এটা কারও কাছ থেকে অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু যেহেতু তিনি ছুটিতে যাবেন, ছুটিতে থাকাকালে আরেকজন প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সে কারণে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে তার ছুটির ব্যাপারে অবহিত করেন।

আনিসুল হক বলেন,  ‘রাষ্ট্রপতির কাছে যে পত্র দেওয়া হয়, সেটা আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে যায়। সেক্ষেত্রে তিনি আমাদের অবহিত করেছেন।’

‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদে বলা আছে প্রধান বিচারপতি যখন অসুস্থতা বা অন্য কারণে তার কাজ করতে অসমর্থ হন, তখন প্রবীণতম বিচারপতি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে পালন করেন। সেই ক্ষেত্রে বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা হচ্ছেন প্রবীণতম বিচারপতি। সেই প্রবীণতম বিচারপতিকে অস্থায়ীভাবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটা তো স্বাভাবিক বিষয়, আইনানুগ জিনিস। এটা নিয়ে স্পেকুলেশন (জল্পনা-কল্পনা) করার তো প্রয়োজন নেই’ যোগ করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, ‘জল্পনা ওনারা কেন করছেন তা আমি একটু স্পেকুলেট করি। ওনারা স্পেকুশেলন করছেন এ কারণে আমার মনে হয়, ওনারা কিছু একটা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছিলেন। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা নস্যাৎ করার একটা চেষ্টা করছিলেন। সেই চেষ্টায় সফল হবেন না। এজন্য ওনারা কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন। ওনাদের অমূলক স্পেকুলেশনের জবাব আমাদের দেওয়ার দরকার নেই।’

উল্লেখ্য, সোমবার দিবাগত রাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। তিনি মঙ্গলবার সকাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন।