জামিনে মুক্ত রেলের ইউসুফ আলী মৃধা

দুদকের দায়ের করা নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কারারুদ্ধ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রামের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। চট্টগ্রাম কেন্দ্রিয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে মানবজমিনকে বলেন, ইউসুফ আলী মৃধার সাজা হওয়া মামলা এবং বিচারাধীন ১৪ মামলায় জামিননামা কারাগারে বিভিন্ন সময়ে আসে। যা যাচাই-বাছাই করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিনি জানান, ১৪টি মামলার কয়েকটি হাইকোর্ট থেকে এবং অধিকাংশই চট্টগ্রাম আদালত থেকে জামিন পান ইউসুফ আলী মৃধা। ফলে রোববার দিনগত রাত ৮টার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল মধ্যরাতে ঢাকায় বিজিবি সদর দপ্তরে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহকারী ওমর ফারুক তালুকদারকে বহনকারী গাড়িতে বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার ঘটনার পর ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে ওই গাড়িতে থাকা ইউসুফ আলী মৃধাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চাকরিচ্যুত হন রেলমন্ত্রীর সহকারী ওমর ফারুক তালুকদারও। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই গাড়িতে ৭০ লাখ টাকা ছিল। যা আদায় করা হয়েছে রেলে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে। এরপর ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ইউসুফ আলী মৃধার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা দায়ের করে দুদক।
এরমধ্যে ২০১৩ সালের ১৩ অগাস্ট ফুয়েল চেকার পদের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সেসময়ের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা। ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় ইফসুফ আলী মৃধাসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন করে। এর আগে ২০১৩ সালের ১৮ অগাস্ট সহকারী কেমিস্ট পদের মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। ওই সালের ৩ মার্চ আদালতে আতœসমর্পন করলে ইউসুফ আলী মৃধাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ৩ অগাস্ট অবৈধ স¤পদ অর্জনের একটি মামলায় ঢাকার আদালতে তিন বছরের সাজা হয় মৃধার। রেলে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে মৃধাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল রায় দেন আদালত। রেলের সহকারী কেমিস্ট ও ফুয়েল চেকার পদে নিয়োগে দুর্নীতির দুই মামলায় মৃধাসহ তার দুই সহযোগীকে প্রতি মামলায় দুই বছর করে চার বছর কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। নিয়োগে দুর্নীতির বাকি ১১ মামলার মধ্যে চারটি মামলার বিচার চলছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে। পাঁচটি মামলায় দুদক অভিযোগপত্র দিয়েছে আদালতে। বাকি দুটি মামলার তদন্ত শেষ হয়নি এখনো। এ অবস্থায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান ইউসুফ আলী মৃধা।