লালপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারের নামে অবিচার

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা সংলগ্ন লালপুরের দুয়ারিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম লাবলু’র নির্দেশে পোষ্য গ্রাম মাতব্বররা স্থানীয় এক ঘটনায় একটি দরিদ্র পরিবারকে অন্যায়ভাবে দোষী সাবস্ত্য করে শাস্তি স্বরূপ এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও আধা বিঘা (সাড়ে ১৬ শতাংশ) জমি সমূলে হস্তান্তর করার নিদের্শ দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে ওই টাকা ও জমি না দিলে একরাতের মধ্যে ভিটামাটি ছাড়া করবে বলেও হুমকি দিয়েছে চেয়ারম্যানের লোকজন। আর এতে ওই অসহায় পরিবারটি সর্বশান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দুয়ারিয়া ইউনিয়নের হেলাল প্রামাণিকের স্ত্রী গৃহবধূ মিলি খাতুন গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাশ্ববর্তী শরীফুল ইসলামে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। সেখানে মিলি খাতুন কণেকে সাজানোর সময় কিছু স্বর্ণালংকার চুরি হয়। পরবর্তীতে বিয়ে বাড়ির লোকজন মিলিকে সন্দেহ করে চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে মিলি তা অস্বীকার করে। কিন্তু পরবর্তীতে লোক-লজ্জার ভয়ে মিলি বাড়িতে এসে বিষপান করে। এরপর তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর মিলি মারা যায়। নিহত মিলি’র মামা স্থানীয় ইউপি ১ নং ওয়ার্ড সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার পর ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বুদ্ধি-পরামর্শ করে ৩ অক্টোবর দুয়ারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রাম্য বিচার পরিচালনা করেন। সেখানে চুরির অপবাদ দেয়ার কারণে মিলি আতœহত্যা করেছে বলে দোষী সাবস্ত্য করে বিয়ে বাড়ির গৃহকর্তা শরীফুল ইসলামকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা ও ৮ শতক জমি মিলির শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে প্রদানের নির্দেশ দেন।

এ বিচারের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যান জানান, গ্রামের শান্তি আনতে এই বিচার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমার ইউনিয়নের বিচারের শাস্তি কী হবে তা আমি নির্ধারণ করবো। এদিকে স্থানীয় সুধী সমাজ মনে করেন ইউপি চেয়ারম্যান দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে এই বিচার কার্য্য সম্পাদন করেছেন। যা স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া অন্য কিছুই নয়। তবে কেহ কেহ বলছেন, এটা বিচারের নামে প্রহসন ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিচার বাণিজ্য।

গৃহকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, তিনি একজন দরিদ্র কৃষক। যতসামান্য জমি চাষ সহ অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে কোনরকম দিন চলে। ওই দিন তার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে কিছু গয়না চুরি হলে মিলিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো গয়না সম্পর্কে সে কিছু জানে কিনা। এরপর মেয়েটি বাড়িতে ফিরে কেন বা কোন কারণে বিষপান করেছে তা তিনি জানেন না বলে জানান।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রাম্য বিচারে এই ধরণের শাস্তি প্রদানের কোন বিধান নাই। ইউনিয়ন আদালতে দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিচার কার্য্য পরিচালনা করাটাই ছিলো ন্যায় সঙ্গত। বিয়ে বাড়ির ওই গৃহকর্তা লিখিত অভিযোগ দিলে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।