মানিকগঞ্জে খেলার মাঠে প্রতিপক্ষের হামলায় টিম ম্যানেজার নিহতের অভিযোগ

শহিদুল ইসলাম সুজন,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্ট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দলের সমর্থকদের সংঘর্ষে সেলিম মালিক (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের । নিহত সেলিম উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের বড় কালিয়াকৈর ডিগ্রিবাধা গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় কবি নজরুল স্মৃতি টিমের ম্যানেজার গত শনিবার বিকালে স্থানীয় নবগ্রাম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের লাশ মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানায় পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের করেছে।

নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার বড় কালিয়াকৈর এলাকার ছাত্র ও যুব কল্যাণ উন্নয়ন সংঘ নামে একটি সংগঠন স্থানীয় নবগ্রাম বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শেখ রাসেল স্মৃতি ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ খাঁন এ খেলার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। গত শনিবার ছিল কবি নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংঘ ও বীর শ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ক্রীড়া একাদশের মধ্যে আধা চুড়ান্ত (সেমিফাইনাল) খেলা।

খেলার আয়োজক ছাত্র ও যুব কল্যাণ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি শামীম আহম্মেদ বলেন, বিকাল ৪টায় খেলা শুরু হয়। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে একটি ফাউল হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই দলের খেলোয়ারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে উভয় দলের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে খেলা পন্ড হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় কবি নজরুল ইসলাম স্মৃতি সংঘের টিম ম্যানেজার সেলিম মালিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন । আহত সেলিম মালেক কে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সেলিম মালিককে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহতের স্বজন ওসমান গনি জানান, এ ঘটনায় নিহত সেলিম মালিকের স্ত্রী ফরিদা বেগম বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ক্রীড়া একাদশের অধিনায়ক জিয়াউর রহমান (২৭), খেলোয়ার সেলিম হোসেন (২৫), আফজাল হোসেন (২৩) মহন (১৬) ও রনিসহ অন্তত ২০-৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

সিঙ্গাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, সেলিম মালিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না প্রতিপক্ষের আঘাতে মারা গেছে সে বিষয়ে এখন নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ময়না তদন্তের রির্পোট পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।